বগুড়ার শেরপুরের বিএনপি নেতা মতিনের খুনিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার শেরপুরের বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন হত্যাকান্ডের ২৯ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো উদঘাটিত হয়নি হত্যা রহস্য? খুনিরা রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। প্রাপ্ততথ্য ও মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৯ মাস আগে ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইন গ্রামের বিএনপি নেতা আব্দুল মতিনকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরদিন সকালে গ্রামের পাশেই ঝিনাইগাড়ী নামক একটি পুকুর পাড়ের পাশের ধান ক্ষেত থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়। সেই ঘটনায় হত্যা মামলা হলেও খুনিরা আজও ধরা পড়েনি, উদঘাটিত হয়নি হত্যা রহস্য। ফলে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরে এখন ক্লান্ত ও নিঃস্ব তার পরিবার।
সরেজমিনে উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের মান্দাইন গ্রামে গেলে পরিবারের লোকজন জানান, বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭৪ নম্বর সদস্য আব্দুল মতিন খুন হওয়ার মাত্র ৮ দিন আগে ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একটি গায়েবি মামলা করেছিল।
সেই মামলায় বর্তমান এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজসহ বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সাথে তাকেও ৬৪ নম্বর আসামি করা হয়। কিন্তু মামলায় অনেক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ থাকলেও ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বা অন্য কারও নাম না থাকলেও কোন উদ্দেশ্য কার নির্দেশে আব্দুল মতিনকে আসামি করা হয় সেই প্রশ্ন তুলেছেন তার মেয়ে মৌসুমী আকতার।
তিনি বলেন, বাবা খুন হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম ন্যায়বিচার পাব, কিন্তু দীর্ঘ ২৯ মাসেও পুলিশ খুনিদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টো তারা এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করেছে। বর্তমানে মামলাটি বগুড়া সিআইডিতে তদন্তাধীন রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিএনপি নেতাকর্মীরা হত্যা, গুম ও খুনের শিকার হলেও কোন বিচার পাননি। এমনি এক হত্যাকান্ডের শিকার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন।
দীর্ঘদিনেও হত্যা রহস্য উৎঘাটন ও আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, এখন যেহেতু বিএনপি সরকার গঠন করেছে তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমরা সুষ্ঠু বিচার ও খুনিদের গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করছি।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি ইন্সপেক্টর মুনজুর আলম বলেন, মামলাটি ক্লুলেস হওয়ায় এখনো কোন রহস্য উম্মোচন করা যায়নি। তদন্ত চলছে, আশাকারি খুব দ্রুত আমরা এই হত্যাকান্ডের কারণসহ আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবো।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165735