নরসিংদীর রায়পুরায় অধ্যক্ষকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

নরসিংদীর রায়পুরায় অধ্যক্ষকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ‘মব’ সৃষ্টি করে নূর সাখাওয়াত হোসেন নামে এক অধ্যক্ষকে হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সরকারি আদিয়াবাদ ইসলামিয়া উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজে পাঠদান চলাকালে এই ঘটনা ঘটে। তিনি ওই কলেজের অধ্যক্ষ। 

এ ঘটনার ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি মিলে নূর সাখাওয়াত হোসেনের কোমরের অংশের প্যান্টে ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাদের ‘না করছিলাম না’, ‘ধর’ বলতে শোনা যায়।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ নূর সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সকালে কলেজে গিয়ে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় আমজাদ, জলিল, আতিক, জুয়েলসহ আরও চার-পাঁচজন বহিরাগত অতর্কিতভাবে কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তারা আমাকে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলের কাছে যেতে বলেন। আমি যেতে অস্বীকার করলে টেনেহিঁচড়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে প্রতিষ্ঠানের বাইরে নিয়ে যান তারা। এরই মধ্যে আমি জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। এছাড়াও রায়পুরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। 

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদলের নেতৃত্বে কিছু লোক আমার কাছে চাঁদা দাবি করেন। আমি তাদের চাওয়া সেই অর্থ দিতে অস্বীকার করায় তারা ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।’

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন নূর সাখাওয়াত হোসেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পরপর দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। আদালতে এসব অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে স্বপদে বহাল রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। এরপরও স্থানীয় কিছু ব্যক্তির চাপে প্রতিষ্ঠানটিতে তিনি যোগদান করতে পারছিলেন না। আজ তিনি প্রতিষ্ঠানে যোগ দিতে গেলে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় জানতে চাইলে আদিয়াবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বাদল বলেন, ‘আমি আজকের এই ঘটনায় কিছুই জানি না। আমি ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি। এলাকার কেউ গিয়েছে কি না, জানি না।’

এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165727