বগুড়ায় ক্রীড়া কমপ্লেক্সের পাশাপাশি পৃথক ফুটবল স্টেডিয়াম এখন সময়ের দাবি
রাহাত রিটু : বগুড়ার ক্রীড়ামোদী মানুষের দীর্ঘ দিনের চাহিদার প্রেক্ষিতে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে ঘিরে ক্রীড়া কমপ্লেক্স এবং পৃথক একটি ফুটবল স্টেডিয়াম এখন সময়ের দাবি। মাহবুবর রহমান বড় কালু, আলফাজ উদ্দিন গেদা, আবিদুর রহমান নান্টু আর অমলেশ সেনের বগুড়ায় দীর্ঘ দিনেও ফুটবল স্টেডিয়াম না হওয়ায় ক্ষোভ ও দুঃখ রয়েছে ফুটবলারদের মাঝে।
বগুড়ায় একটি মানসম্পন্ন ফুটবল স্টেডিয়াম না থাকায় জাতীয় কোন খেলা বগুড়ায় করা সম্ভব হচ্ছে না। জাতীয় ফুটবল লিগ হলে জাতীয় ফুটবলারেরা যেকোন জেলা দলের হয়ে খেলে এবং সেই সব খেলা দেখতে আসা বালক, কিশোরেরা ফুটবলের প্রেমে পড়ে যায় এবং মাঠে বল নিয়ে ছোটাছুটি করে। ছোটাছোটি করতে গিয়ে তারা হয়ে উঠতে পারে বড় ফুটবলার।
বগুড়া শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামসংলগ্ন মাঠে ফুটবল মাঠ থাকলেও সেই মাঠে জাতীয় কোন খেলা হয় না। আবার অনুশীলন করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। একারণে বগুড়ায় একটি ফুটবল স্টেডিয়াম এখন সময়ের দাবি।
বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, ফুটবল হলো বাঙালির প্রিয় খেলা। এখন যতই ক্রিকেট নিয়ে মাতামাতি হোক ফুটবল হলো দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রিয় খেলা ফুটবল। বর্তমানে শহর এবং গ্রাম-গঞ্জ কোথাও ফুটবল মাঠ নেই। মাঠ না থাকায় ফুটবল খেলা হচ্ছে না, অনুশীলন করার জায়গা নেই। একারণে বগুড়ায় কমপক্ষে তিনটি মাঠের প্রয়োজন।
এরমধ্যে আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠের পূর্ব এবং পশ্চিমে উঁচু করে দুটি গ্যালারি করা যেতে পারে। যেখানে অনায়াসে ৮ থেকে ১০ হাজার মানুষ বসে খেলা দেখতে পারবে। দেশের বাইরে অনেক দেশে এরকম ছোট মাঠের দুই গ্যালারি রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি উপজেলায় স্টেডিয়াম, সান্তাহার স্টেডিয়ামকে সংস্কার করে আধুনিকায়ন করা।
তিনমাথার কাছে কাহালু রোডে গণপূর্ত বিভাগের জায়গা আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকের মাধ্যমে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় এনে স্টেডিয়াম করা যেতে পারে। তাছাড়া প্রথম বাইপাসে স্টেডিয়াম করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামসংলগ্ন ওয়ান্ডার ল্যান্ডের চুক্তির মেয়াদ সম্ভবত এই বছরই শেষ হচ্ছে। তাই ওয়ান্ডার ল্যান্ড তুলে দিয়ে শহীদ চাঁন্দু স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করে ক্রীড়া কমপ্লেক্স করা যেতে পারে।
বগুড়া জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ও প্রথম বিভাগের ফুটবল দল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন সান সাইন ক্লাকেবর সভাপতি খাজা আবু হায়াৎ হিরু জানান, বগুড়ায় মাঠের তীব্র সংকট। মাঠের অভাবে তরুণেরা অনুশীলন কতে পারে না। আগে পাড়ায় পাড়ায় মাঠ ছিল এখন সেগুলো নেই। একারণে সরকারি উদ্যোগে মাঠ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাবেক ফুটবলার আমিনুল ইসলাম বগুড়ায় আসলে তাকে এ বিষয়ে বলা হয়েছে। একটা জেলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পাশাপাশি ফুটবল স্টেডিয়ামে আশা করছে বগুড়াবাসী।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165573