বগুড়ার তালোড়ায় যত্রতত্র গড়ে উঠা মিলের ছাই ও ধুলোয় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

বগুড়ার তালোড়ায় যত্রতত্র গড়ে উঠা মিলের ছাই ও ধুলোয় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

দুপচাঁচিয়া (বগুড়া) প্রতিনিধি : দুপচাঁচিয়া উপজেলার বন্দর নগর তালোড়ায় যত্রতত্র ভাবে গড়ে উঠা তুষের মিল সহ অটো রাইচ মিলের ছাই ও ধুলোয় এলাকাবাসি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। দুপচাঁচিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দক্ষিণে বন্দরনগর তালোড়া অবস্থিত। প্রাচীনতম এই বন্দর এলাকায় একসময় এ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরী ব্যবসা জমজমাট ছিলো।

কালের আবর্তে অনেক এ্যালুমিনিয়াম ফ্যাক্টরী বন্ধ হয়ে গড়ে উঠেছে অটো রাইচ মিলসহ হ্যাস্কিং রাইচ মিল ও তুষের মিলসহ কাঠ কাটার করাত মিল। এইসব মিলের অধিকাংশেরই নেই ছাই উড়া প্রতিরোধক ব্যবস্থা। ফলে মিলের ছাই ও ধুলোয় এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। দুপচাঁচিয়া-তালোড়া সড়কে তালোড়ার প্রবেশ মুখেই আব্দুল রাইচ ব্রাদার্স তুষের মিল অবস্থিত।

বিভিন্ন অটো রাইচ মিল থেকে ধানের গুড়া কিনে নিয়ে এসে এই অটো তুষের মিল থেকে হোলার মেশিনের সাহায্যে নিপুনভাবে গুড়া করা হচ্ছে। যা মুরগির ব্যান ও গরুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। এই মিলের তৈরিকৃত তুষগুলো উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ট্রাক বোঝাই করে সরবরাহ করা হয়। এই মিলের তুষ উড়া প্রতিরোধের কোন ব্যবস্থা নেই।

রাস্তার পাশেই কাঠ কাটার করাত মিল স্থাপন করা হয়েছে। কাঠ কাটার সময় এর গুড়া প্রতিরোধের কোনো ব্যবস্থা না থকার ফলে মিলগুলোর তুষ উড়ে এসে রাস্তায় চলাচলরত সাধারণ মানুষসহ স্কুল কলেজগামী ছেলেমেয়েদের চোখে পড়ছে। এতে তারা বিপাকে পড়ছে। একইভাবে রাস্তার পাশেই স্থাপিত বিভিন্ন অটো রাইচ মিলসহ হ্যাস্কিং রাইচ মিল থেকেও অনুরুপভাবে তুষ বা গুড়া উড়ে এসে পথচারীদের শরীরসহ চোখে পড়ছে।

এক্ষেত্রে মোটরসাইকেল ও সাইকেল চালকসহ অটোভ্যান ও আরোহীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। মিলগুলোর গুড়া ও ছাই মোটরসাইকেল চালক ও ভ্যান চালকের চোখে পড়ার সাথে সাথেই দুর্ঘটনা ঘটার আশংকাও দেখা দেয়। এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী এমদাদুল হক তালুকদার জানান, তার বাসভবনের সামনেই এই তুষের মিলের তুষ তার দোতলা বাসার জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করছে।

জানালায় গ্লাস লাগানোসহ প্লাস্টিক কাগজ লাগিয়ে তুষ প্রতিরোধের ব্যবস্থা করলেও কোন উপকারে আসছে না। জনবহুল এলাকায় এ ধরণের তুষের মিল স্থাপন পরিবেশ মারাত্মক ভাবে দুষণ করছে। এ ব্যাপারে তালোড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল জলিল খন্দকার বলেন, বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পরিবেশ অধিদপ্তরের। কিন্তু তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পরিবেশ রক্ষায় ছাই ও ধুলো উড়ার বিষয়টি দ্রুত বন্ধ হওয়া দরকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165478