রংপুর বিভাগে মাছের ঘাটতি প্রায় ১৯ হাজার টন
রংপুর জেলা প্রতিনিধি : রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় প্রায় ১৯ হাজার মেট্রিক টন মাছের ঘাটতি রয়েছে। এই ঘাটতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে পানির সংকট। রংপুর বিভাগের প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার পুকুরের মধ্যে ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার পুকুরে সারা বছর পানি থাকে না। অধিকাংশ পুকুরে মাত্র ৩ থেকে ৪ মাস পানি থাকায় বাকি সময় মাছ চাষ সম্ভব হয় না।
মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে ৫০টি নদ-নদী, প্রায় ১২শ’ খাল এবং ৮৩৭টি বিল থাকলেও স্থায়ী জলাশয়ের সংখ্যা তুলনামূলক কম। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত অধিকাংশ পুকুরে পানি থাকে না, ফলে মাছ চাষ বন্ধ থাকে। মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সীমিত সময়ের জন্য পানি থাকায় উৎপাদনও কম হয়।
দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ। এই তিন জেলার প্রায় ৮০ শতাংশ পুকুরে দীর্ঘসময় পানি থাকে না। এ অঞ্চলে আমিষের মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। চলতি বছরে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন।
ফলে ঘাটতি থেকে যাচ্ছে ১৯ হাজার মেট্রিক টনের বেশি। একসময় রংপুর অঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল ছিল প্রায় ২শ’ প্রজাতির দেশীয় মাছের নিরাপদ আবাসস্থল। জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং পানি স্বল্পতার কারণে বর্তমানে প্রায় ৩০ প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।
মৎস্য বিভাগের মতে, বর্তমানে শুধু কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ মৌসুমে কিছু জেলে সীমিত সহায়তা পান, কিন্তু সামগ্রিকভাবে মৎস্য চাষিদের জন্য উল্লেখযোগ্য সহায়তা নেই। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, পরিস্থিতি উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের ৫৮টি উপজেলায় মাছের জন্য একাধিক অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে এবং দেশি প্রজাতির মাছ চাষে চাষিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
রংপুর মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, ধারাবাহিক উদ্যোগের ফলে প্রতি বছর মাছের ঘাটতি কমছে। পুকুরে ১২ মাস পানি ধরে রাখার প্রযুক্তি ও পদ্ধতি ব্যবহারে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে রংপুর বিভাগ মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে এবং উদ্বৃত্ত মাছ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165470