অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (AAAB)-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত
অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (AAAB) গত ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে ঢাকার বনানী ক্লাব ব্যাংকুয়েট হলে সফলভাবে বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) সম্পন্ন করেছে, সেখানে অ্যাসোসিয়েশনের ৪২টি সদস্য এজেন্সির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
AAAB-এর সভাপতি সানাউল আরেফীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যবৃন্দ, এজেন্সি নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন গীতিআরা সাফিয়া চৌধুরী, রামেন্দু মজুমদার, মুনীর আহমেদ খান এবং বিজ্ঞাপনী শিল্পের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ইউসুফ হাসান।
বার্ষিক সাধারণ সভাটি সভাপতির স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে শুরু হয় এবং এরপর পূর্ববর্তী বার্ষিক সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন করা হয়। সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আহসানুল আপন বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন, যেখানে বিগত মেয়াদের প্রধান উদ্যোগ এবং অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন কর্মশালা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে বিজ্ঞাপনী শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধিতে AAAB নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে চলমান নীতিমালা সংক্রান্ত অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমের ওপর জোর দেন। সভায় উত্থাপিত প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে ছিল ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের পেমেন্ট চ্যালেঞ্জ, ভ্যাট ও ট্যাক্স সংক্রান্ত জটিলতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা এবং বিজ্ঞাপনী শিল্পের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা। এছাড়া তিনি সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক নীতিমালা শক্তিশালী করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিজ্ঞাপনী শিল্পের ক্রমবর্ধমান অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সরকারি অংশীজনদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
উন্মুক্ত আলোচনা এবং প্রশ্নোত্তর পর্বে এজেন্সি প্রতিনিধিরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণ করেন; তারা তাদের বর্তমান ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জগুলো শেয়ার করেন এবং যেসব ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েশন তাদের সমর্থন আরও জোরদার করতে পারে তা চিহ্নিত করেন।
এরপর AAAB-এর কোষাধ্যক্ষ সারাহ আলী অডিটকৃত আর্থিক প্রতিবেদন পেশ করেন। সভায় উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে ২০২৪ সালের নভেম্বরের এজিএম-এর কার্যবিবরণী, বার্ষিক প্রতিবেদন, কোষাধ্যক্ষের রিপোর্ট, অডিট রিপোর্ট এবং ২০২৬ সালের জন্য প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করেন। পাশাপাশি নতুন অডিটর নিয়োগ ও তাদের পারিশ্রমিকও নির্ধারণ করা হয়।
একটি বিশেষ পর্বে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম এ মারুফ পূর্ববর্তী বার্ষিক সাধারণ সভার পর থেকে অ্যাসোসিয়েশনে যোগ দেওয়া নতুন সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান এবং উপকমিটির সদস্যদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বিজ্ঞাপনী শিল্পকে শক্তিশালী করতে সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
কার্যনির্বাহী কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে ড. মুহম্মদ রিসালাত সিদ্দীক এবং মেহরুন নেসা ইসলামও সভায় উপস্থিত ছিলেন। সহ-সভাপতি নাজিম ফারহান চৌধুরীর ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।
সদস্যরা এই বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণ করে সন্তোষ ও আনন্দ প্রকাশ করেন। সভার আনুষ্ঠানিক পর্ব শেষে নৈশভোজ, সঙ্গীতানুষ্ঠান ও সদস্যদের আন্তরিক আড্ডায় উষ্ণ ও প্রাণবন্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165444