সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমালেন প্রেসিডেন্ট হ্লেইং

সু চির কারাদণ্ডের মেয়াদ কমালেন প্রেসিডেন্ট হ্লেইং

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মিয়ানমারের কারাবন্দি গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির কারাবাসের মেয়াদ হ্রাস করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং। সু চির আইনজীবীর বরাত দিয়ে শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

সু চির আইনজীবী জানিয়েছেন, বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় মিয়ানমারের ৮০ বছর বয়সী এই নেত্রীকে ২৭ বছর কারাবাসের সাজা দেওয়া হয়েছিল। সেই সাজার এক-ষষ্ঠাংশ অর্থাৎ সাড়ে চার বছরের সাজা হ্রাস করা হয়েছে।

২০২০ সালের নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় অর্জন করে ক্ষমতায় এসেছিল সু চির রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং এ অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, অভ্যুত্থানের পর গঠিত সামরিক সরকারের প্রধানও হন তিনি।

অভ্যুত্থানের পরপরই সু চি এবং তার দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে বন্দি করে কারাগারে পাঠানো হয়, তাদের মধ্যে এমপি-মন্ত্রীরাও ছিলেন।

ক্ষমতাচ্যুত সু চির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির অভিযোগ আনে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। রাজধানী নেইপিদোর একটি সামরিক আদালতে সেসব অভিযোগের বিচার চলে এবং সব অভিযোগের সম্মিলিত দণ্ড হিসেবে সু চিকে মোট ২৭ বছর কারাবাসের সাজা দিয়েছিলেন বিচারক।

এদিকে ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের প্রায় ৫ বছর পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন দেয় সামরিক সরকার। সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হন মিন অঙ হ্লেইং। গত ১০ এপ্রিল মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণ করেন তিনি।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানিয়েছে, সু চির সাজা কমানোর পাশাপাশি মোট ৪ হাজার ৩৩৫ জন আসামিকে মুক্তি দিয়েছে প্রেসিডেন্ট হ্লেইংয়ের নেতৃত্বাধীন সরকার। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে এনএলডি নেতা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনের পর মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হওয়া উইন মিন্ত-ও আছেন।

সামনে মিয়ানমারের নববর্ষ বা ‘থিনগিয়ান’ উৎসব। দেশটিতে থিনগিয়ান উৎসবের আগে কারাবন্দিদের মুক্তি দেওয়ার রীতি আছে।

সূত্র : রয়টার্স

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165435