সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রীসে পাঠানোর কথা বলে ৮ হাতিয়ে নিলেন ২৬ লাখ টাকা

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে গ্রীসে পাঠানোর কথা বলে ৮ হাতিয়ে নিলেন ২৬ লাখ টাকা

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশে আদম ব্যাপারীর খপ্পরে পড়ে ২৫ দিন অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমান নামের দুই যুবক। আর জমি বিক্রি করে এবং সঞ্চয় সব টাকা হারিয়ে স্বচ্ছল জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে গিয়ে দুই যুবক শুধু মাত্র জান নিয়ে ফিরতে পেরেছেন দেশে। ঘটনাটি ঘটেছে, উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বিনসাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. শিহাব উদ্দিন উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের পেঙ্গুয়ারি ও মো. হাবিবুর রহমান বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আর আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুন বিনসাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ বিষয়ে ভুক্তাভোগী যুবক শিহাব উদ্দিন এর প্রতিকার চেয়ে গত ১২ এপ্রিল আদম ব্যাপারী মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার ছেলের বউ মোছা. জলি খাতুনের বিরুদ্ধে তাড়াশ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মো. জাকারিয়া হোসেন গ্রীসে থাকেন। তার সূত্রে ধরে তার বাবা মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী মোছা. জলি খাতুন গ্রীসে যেতে ইচ্ছুক মো. শিহাব উদ্দিন ও মো. হাবিবুর রহমানের সাথে গত ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য তাদের সাথে দেন দরবার করেন। এরপর দর কষাকষি শেষে তাদের দুজনের কাছ থেকে দুই দফায় ২৬ লাখ টাকা জলি খাতুন ও তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম গ্রহণ করেন।

শিহাব ও হাবিবুর রহমান জানান, আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর ও জলি খাতুনকে টাকা দেওয়ার পর গত ৭ মার্চ তাদের পরিচিত এক ব্যক্তির মাধ্যমে আমাদেরকে গ্রীসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা বিমান বন্দরে এনে একটি বিমানে তুলে দেয়। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তি আমাদের লিবিয়ার বেনগাজি বিমান বন্দরে নামতে বলে। পরে একটি মাইক্রো গাড়িতে করে লিবিয়ার একটি অঞ্চলে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। পরে একটি ছোট্ট কক্ষে পূর্বে থেকে অবস্থান করা আরো প্রায় ৪০ জন লোকের সাথে আমাদের ওই রুমে রেখে তালাবদ্ধ করে চলে যায়।

তারপর থেকে প্রায় ২০ দিন অনাহারে অর্ধাহারে রেখে দফায় দফায় টাকার জন্য মানিসক-শারীরিক নির্যাতন করতে থাকে। এক পর্যায়ে জনপ্রতি ১০ লাখ টাকা দাবি করে দু’জনের পরিবারের কাছে ফোনে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ দেয়। পরবর্তীতে আমাদের পরিবার ওই আদম ব্যাপারী জাহাঙ্গীর আলম ও জলি খাতুনের সাথে যোগাযোগ করেন। তখন জলি এবং জাহাঙ্গীরের কথা মতো আমাদের দুই পরিবার সদস্যরা জনপ্রতি ৭ লাখ টাকা লিবিয়ার ওই মাফিয়াদের কাছে হুনডির মাধ্যমে পাঠায়। টাকা পাঠানোর একদিনের পর আমাদের দু’জনকে মাফিয়া চক্র ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে আমরা সব খুইয়ে শুধু জান নিয়ে গত ৫ এপ্রিল দেশে ফিরে এসেছি।

এ ব্যাপারে গত বুধবার দুপুরে মুঠোফোনে শিহাব ও হাবিবুর রহমানকে গ্রীসে পাঠানোর জন্য নিজে ৪ লাখ এবং তার শ্বশুর জাহাঙ্গীর আলম ১লাখ টাকা নিয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন আদম ব্যাপারী মোছা. জলি খাতুন। তিনি বলেন, সরাসরি গ্রীসে যাওয়া যায় না। এ কারণে প্রথমে তাদের দুজনকে পাঠানো হয়েছিল লিবিয়ায় অবস্থানরত আমার মামা বাশারের কাছে। কিন্তু শিহাব ও হাবিবুর রহমান উচ্চ মূল্যের কাজ চেয়ে তা না পেয়ে ফেরত এসেছেন। আর এ প্রসঙ্গে তাড়াশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান জানান, তদন্তের কাজ চলছে। আইনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165363