দলিত ও উচ্চবর্ণের হিন্দুদের তুমুল সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রদেশ: থানায় হামলা-ভাঙচুর

দলিত ও উচ্চবর্ণের হিন্দুদের তুমুল সংঘর্ষে উত্তপ্ত মধ্যপ্রদেশ: থানায় হামলা-ভাঙচুর

ভারতের মধ্যপ্রদেশের সিধি জেলায় আম্বেদকর জয়ন্তীর র‍্যালিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একটি পার্ক করা গাড়ি সরানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামান্য বিতর্ক শেষ পর্যন্ত দলিত হিন্দু এবং উচ্চবর্ণের জনগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই ঘটনায় ১২ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন এবং উত্তেজিত জনতা স্থানীয় একটি থানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে।

গত ১৪ এপ্রিল আমিলিয়ার এলাকায় ভিম আর্মির সদস্যরা ড. বি.আর. আম্বেদকরের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে একটি র‍্যালি বের করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, র‍্যালির পথে একটি বোলেরো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। র‍্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তিকে সরে যেতে বললে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, ওই দুই ব্যক্তিকে গাড়ি থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়।

র‍্যালিটি এগোতে থাকলে এই ব্যক্তিগত বিবাদ দ্রুত জাতিগত রূপ নেয়। দলিত ও উচ্চবর্ণের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে থাকে। রামাকান্ত শুক্লা নামক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "সব দিক থেকে পাথর আসছিল। আমার গাড়িতেও আঘাত লাগে এবং আমি নিজে জখম হই।

র‍্যালি শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। প্রায় ২০০ জনের একটি বড় দল স্থানীয় থানায় চড়াও হয়। তারা থানার সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং আসবাবপত্র নষ্ট করে। উত্তেজিত জনতা থানার ইনচার্জ রাকেশ বাইসসহ পুলিশ কর্মীদের ওপর হামলা চালায়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অরবিন্দ শ্রীবাস্তব জানান, আটককৃত কিছু ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়েছে।

বর্তমানে এলাকায় ২০০-এর বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা কালেক্টর বিকাশ মিশ্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং বাজারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

দলিত নেত্রী রানী ভার্মা অভিযোগ করেছেন যে, বজরং দলের সদস্যরা এই সহিংসতার পেছনে জড়িত এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ এখনও এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেনি এবং তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, আইন হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165353