পাঁচ মাসেও অজানা বগুড়ায় উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ আসল না নকল 

পাঁচ মাসেও অজানা বগুড়ায় উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ আসল না নকল 

স্টাফ রিপোর্টার : পাঁচ মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও জানা যায়নি বগুড়ায় উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ আসল না নকল। পরীক্ষার জন্য এই বিষ গত বছরের ৩০ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদালয়ের ডিপার্টমেন্ট অব জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু  ল্যাবে পাঠানোর পর পাঁচ মাস ১৭ দিন পেরিয়ে গেলেও বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পর্যন্ত বিষ পরীক্ষার রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসে পৌঁছেনি।

এর আগে গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের একটি টিম বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া শহীদ নগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসএম ফেরদৌস ও রমজান আলী নামে দু’জনকে গ্রেফতার এবং তাদের হেফাজত থেকে পাঁচটি কাঁচের জারে রাখা সাপের বিষ উদ্ধার করে। স্মরণকালের মধ্যে বগুড়ায় সাপের বিষ চালান উদ্ধারের ঘটনা এই প্রথম। এ ঘটনায় থানায় ধৃত আসামিদের বিরুদ্ধে সাপের বিষ চোরাচালানের অভিযোগে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় উদ্ধার করা সাপের বিষকে কথিত বিষ বলে উল্লেখ এবং সেইসাথে এর দাম ৪২ টাকা কোটি বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি বগুড়ার এসআই মো. স্বপন মিয়া বলেন, ক্রেতা সেজে ডিবি সাপের বিষসহ ফেরদৌস ও রমজানকে গ্রেফতার করে। তারা উদ্বারকৃত বিষের দাম চেয়েছিল ৪২ কোটি টাকা। কিন্তু ক্রেতা সেজে ডিবি বিষের দাম ৩০ কোটি টাকা দিতে চাইলে তারা রাজি হয়ে যায়। কিন্তু তারা যে ছদ্মবেশি ডিবি পুলিশ তা চিনতে পারেনি ফেরদৌস ও রমজান। ডিবিকে ক্রেতা ভেবে তারা পাঁচটি জারে করে সাপের বিষ এনে বিক্রির সময় ধরা পড়ে। গ্রেফতারের পর ওই দুইজন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছিল যে, তারা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে আমদানি নিষিদ্ধ ও মহামূল্যবান সাপের বিষ চোরাচালান করে আসছিল। তবে তারা বাহক মাত্র। তাদের গডফাদার ও সহযোগীরা থাকে ঢাকায়। তারা দাবি করেছে উদ্ধার হওয়া বিষ আসল। এর দাম ৪২ কোটি টাকা। দেশ ও বিদেশ থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে বিষ সংগ্রহ করে দেশে এনে তারা গোপনে বিক্রি করতো। তারা একটি আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে জড়িত। তদন্তকারী কর্মকর্তা আরো বলেন, এখনো সাপের বিষ পরীক্ষার রিপোর্ট তাদের হাতে পৌঁছেনি। তবে তিনি আশাবাদি অচিরেই বিষ পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া যাবে। আর এই রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে উদ্ধার হওয়া সাপের বিষ আসল না নকল।

এসআই স্বপন আরও বলেন, অভিযুক্ত ফেরদৌস ও রমজান ফ্রান্স থেকে অবৈধভাবে এসব সাপের বিষ দেশে এনে সীমান্তে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে তারা স্বীকার করে। তবে তাদের গডফাদার কে তার নাম জানায়নি। উদ্ধারকৃত পাঁচটি কাঁচের জারসহ বিষের ওজন ছয় হাজার ৭শ’ গ্রাম। ওই সব কাঁচের জারের গায়ে লেবেলে লেখা ছিল কোবরা রেড ড্রাগন কোম্পানি, মেড ইন ফ্রান্স।

একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সোনার থেকেও দামি হলো সাপের বিষ। সাপের বিষের চাহিদা বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। ফুলে ফেঁপে উঠছে সিন্ডিকেটের অবৈধ ব্যবসা। সাপের বিষের ব্যবসা খুবই লাভজনক। কোটি কোটি টাকার সাপের বিষ পাচার হচ্ছে দেশের বাইরেও। পুলিশ কর্মকর্তারা আরও বলেন, বিষ নিষ্কাশনের জন্য ধরা হয় প্রধানত চার প্রজাতির সাপ -কোবরা বা গোখরো, রাসেল ভাইপার, পিট ভাইপার এবং শাখামুটে। বিষ নিষ্কাশনের পর সেই বিষ চালান করা হয় দেশে এবং বিদেশে। সাপের বিষ দিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো তৈরি করে অ্যান্টি-ভেনাম সিরাম। এটা সাপে কাটা মানুষের জীবনদায়ী ওষুধ। ওষুধের পাশাপাশি গবেষণার কাজেও ব্যবহার করা হয় এই বিষ। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165349