মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী

মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী
সমাজসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরীকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬ প্রদান করা হয়েছে। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন স্বামী মনসুর হেলাল।
 
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানের হাতে স্বাধীনতা পুরস্কার তুলে দেন। জাতীয় পর্যায়ে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
 
২০২৫ সালের জুলাই মাসে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্লাস চলাকালীন একটি প্রশিক্ষণ বিমান ভবনে বিধ্বস্ত হলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই সংকটময় মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের জীবন রক্ষায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গিয়ে মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী। পরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেদিন রাতেই তার মৃত্যু হয়।
 
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ি চৌধুরীপাড়ার কৃতি সন্তান মাহেরীন চৌধুরীর এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সমাজসেবা ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।
 
এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারের তালিকায় আরও উল্লেখযোগ্য নাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, যিনি স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষায় অবদানের জন্য মরণোত্তর এ সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
 
অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—মুক্তিযুদ্ধে মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল (মরণোত্তর), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জহুরুল করিম, সাহিত্যে আশরাফ সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে হানিফ সংকেত, সংগীতে বশীর আহমেদ (মরণোত্তর), ক্রীড়ায় জোবেরা রহমান (লিনু), সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী (মরণোত্তর)সহ আরও অনেকে।
 
এছাড়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকেও স্বাধীনতা পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। এগুলো হলো—ফৌজদারহাট ক্যাডেট কলেজ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ), এসওএস চিলড্রেনস ভিলেজ ইন্টারন্যাশনাল ইন বাংলাদেশ এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165341