রাজশাহী নগরীর কল্পনামোড়ে বিতর্কিত ভবন, দখল-অনিয়মে চরম ক্ষোভ
রাজশাহী প্রতিনিধি: রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া কল্পনামোড় এলাকায় নকশা বহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নিরাপত্তা ঝুঁকির আশঙ্কায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা দ্রুত নির্মাণকাজ বন্ধ ও অতিরিক্ত অংশ অপসারণের দাবিতে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
মল্লিক উৎসব গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট মালিকদের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি শামসুল আলম আবেদনে জানান, শিরোইল মৌজার ২০৩ নম্বর দাগে অবস্থিত তাদের আবাসিক ভবনের পাশেই ২০৪ নম্বর দাগের ১ কাঠার একটি কর্ণার প্লটে নতুন করে বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। জমিটির মালিক মো. আব্দুল গণি। তবে স্থানীয়দের দাবি, জমির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূর্বে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে। ফলে অবশিষ্ট ১ কাঠা পরিমাণের জায়গা ৭তলা ভবন নির্মাণের উপযোগী নয়।
অভিযোগ রয়েছে, ভূমিতলসহ ৭তলা ভবনের অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এতে আশপাশের ভবন, বিশেষ করে মল্লিক উৎসব গার্ডেন অ্যাপার্টমেন্ট এবং পথচারীদের নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইতোমধ্যে ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে বড় ধরণের ফাটল দেখা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন বাসিন্দারা।
এদিকে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের তথ্যানুযায়ী, রাস্তার পাশের ড্রেন সংলগ্ন ৭৩ বর্গফুট জায়গা অবৈধভাবে দখল করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত জরিপে বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে।
রাসিকের সার্ভেয়ার অপূর্ব জানান, কোথাও এক বর্গফুট, কোথাও দেড় বর্গফুট করে মোট ৭৩ বর্গফুট জায়গা সিটি কর্পোরেশনের অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তি হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও তিনি জানান।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি আরডিএকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কয়েক দফা বৈঠক করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি।
স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিক যথাযথ তথ্য গোপন করে এবং বিভ্রান্তিকর উপস্থাপনার মাধ্যমে ডেভেলপারের সাহায্যে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা ইমারত নির্মাণ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।
রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভা:) আবদুল্লাহ আল তারেক বলেন, অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মালিককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ মিলেছে যে, নির্ধারিত উন্মুক্ত জায়গা না রেখে সামনে, পেছনে ও পাশে অতিরিক্ত নির্মাণ করা হয়েছে, যা ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২’র স্পষ্ট লঙ্ঘন। এ প্রেক্ষিতে আরডিএ কর্তৃপক্ষ ৬০ দিনের মধ্যে নকশা বহির্ভূত অংশ অপসারণ এবং নির্ধারিত খোলা জায়গা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যথায় অনুমোদন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165242