রংপুরে নানা আয়োজনে চৈত্রসংক্রান্তি পালিত

রংপুরে নানা আয়োজনে চৈত্রসংক্রান্তি পালিত

রংপুর জেলা প্রতিনিধি: ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গভীর গর্ভে বিলীন হলো আরেকটি বাংলা বছর। সেই সুরে মিশে থাকে নতুনের আহ্বান, নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি। বিদায় ও আগমনের এই অনির্বচনীয় সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে চৈত্র সংক্রান্তি যা বাংলার মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও অস্তিত্বের এক গভীর প্রতীক।

রংপুরে আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে চৈত্রসংক্রান্তি। আয়োজন দেখতে আসা দর্শনার্থীরা অনেকটাই খুশি। রংপুরের পাবলিক লাইব্রেরী মাঠে আয়োজন করা হয় কবিতা গান ও নৃত্যানুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের ব্যানারে এ আয়োজনে রংপুরের ৫২টি সংগঠন তাদের পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। অপরদিকে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা ঘুড়ি উৎসবের।

পুরো আয়োজনে খুশি আয়োজকরা। রংপুরের সাংস্কৃতিক ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা জহির আলম নয়ন বলেন, চৈত্রসংক্রান্তির মাধ্যমে আমাদের তিন দিনব্যাপী বর্ষবরণ আয়োজনের সুচনা হলো। প্রায় ৫২ টি সংগঠন এখানে অংশ নিচ্ছে। মানুষের প্রাণের উচ্ছাস আমরা পাচ্ছি। একই সাথে বেরোবি চৈত্রসংক্রান্তি আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. মোঃ হারুন আল রশিদ বলেন, হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি উৎসবের আয়োজনে খুশি তরুণ প্রজন্মরা।

হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি কালচার সবার কাছে পরিচিত করতে আমাদের এ আয়োজন। বাংলা সনের অন্তিম দিনটি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয় এটি এক দীর্ঘ বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ শওকাত আলী বলেন, নতুন উদ্যমে, নব প্রত্যয়ে জীবনকে পুনরারম্ভ করার এক অন্তর্লীন প্রেরণা জাগায় চৈত্র সংক্রান্তি। তরুণ প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতি চিনিয়ে দেয়ার জন্যই এ ধরণের আয়োজন।

গ্রামবাংলার নিসর্গে চৈত্র সংক্রান্তির আবহ যেন আরও গভীর ও প্রাণবন্ত। পুরোনো বছরের যাবতীয় দুঃখ, গ্লানি ও ব্যর্থতাকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতিতে মুখর হয়ে উঠেছে এ জনপদ।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/165067