স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, প্রতিদিনের মতো সোমবার ভোরে বিহারের জন্য ফুল তুলতে বাড়ির বাইরে বের হন কালু বড়ুয়া। এ সময় টাম্বু হাতে ধারালো দা নিয়ে এলাকায় বাড়িঘর ও দোকানের সামনে ভাঙচুর চালাতে থাকে। হঠাৎ এমন তাণ্ডব দেখে কালু বড়ুয়া এগিয়ে গিয়ে কারণ জানতে চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন টাম্বু। কোনো কথা না বলেই তিনি কালু বড়ুয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। একপর্যায়ে তার বুকের ওপর বসে গলায় দা চালিয়ে জবাই করে হত্যা করেন।
ঘটনার জানাজানি হলে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্ত টাম্বু বড়ুয়া নিজেই একটি ছুরি নিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, আত্মসমর্পণের সময় তার হাতে থাকা ছুরিটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র নয়। তাদের সন্দেহ, অন্য কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাটি সংঘটিত হয়েছে এবং সেটি গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
নিহতের ছেলের স্ত্রী সুমা বড়ুয়া বলেন, ‘প্রতিদিন পূজার জন্য বাড়ি থেকে বের হতেন আমার শ্বশুর । আজকেও (সোমবার) সকালেও বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর শুনতে পায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতক টাম্বুর সঙ্গে তাদের কোনো পূর্ব শত্রুতা নেই। কেন হত্যা করেছেন সেটাও জানেন না।’
নিহতের ছেলে অসিম বড়ুয়া দাবি, হত্যাকাণ্ডে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন। তাদের ভাষ্য, টাম্বুর সঙ্গে কালু বড়ুয়ার আগে কোনো বিরোধ বা শত্রুতা ছিল না। হঠাৎ এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়রা বলছেন, গত ১২ এপ্রিল উপলক্ষে সবাই আনন্দ পূর্তি করতে গিয়ে মদ্যপান করেছিলো। ঘাতকও মদ্যপান করা অবস্থায় বৃদ্ধকে হত্যা করেছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অভিযুক্তকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘাতক জানিয়েছে তাদের মাঝে জমিজমা নিয়ে পূর্বের বিরোধ রয়েছে। সোমবার ভোরে পূজার জন্য ফুল তুলতে গেলে মদ্যপ অবস্থায় তর্কের একপর্যায়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে কালুকে।
ওসি আরও বলেন, যেটা বলা হচ্ছে এটা ছাড়া অন্য কোনো কারণ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্য কারো প্ররোচনা থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।