বৈশাখের আগমনী বার্তা নিয়ে চৈত্র সংক্রান্তি আজ চৈত্র সংক্রান্তি
নাসিমা সুলতানা ছুটু : কালবৈশাখীর উত্তাপ আর কোকিলের কুহুতানে প্রকৃতি যখন নতুন সাজে সাজতে উন্মুখ, তখনই বাঙালির দরজায় কড়া নাড়ে ‘চৈত্র সংক্রান্তি’। বাংলা পঞ্জিকার চৈত্র মাসের শেষ দিনটিই হলো সংক্রান্তি; যা কেবল একটি দিন নয়, বরং হাজার বছরের পুরনো এক লোকজ সংস্কৃতির মিলনমেলা। জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় দিয়ে নতুনের আবাহন জানানোর এই ক্ষণ বাঙালির ঐতিহ্যে আজও অমলিন। লোকজ সংস্কৃতির মহোৎসব চৈত্র সংক্রান্তির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো চড়ক পূজা ও শিবের গাজন।
গ্রামবাংলার নিভৃত জনপদে সন্ন্যাসীরা শিবের আরাধনায় মগ্ন হন। ঢাকের বাদ্যি আর কাঁসরের আওয়াজে মুখরিত হয়ে ওঠে পাড়া-মহল্লা। এছাড়াও গ্রামগঞ্জে আয়োজিত হয় ‘চৈত্র সংক্রান্তির মেলা’, যেখানে মাটির পুতুল, নাগরদোলা আর দেশি মিষ্টির সমারোহে প্রাণ ফিরে পায় লোকজ কুটির শিল্প।
চৈত্র সংক্রান্তির খাবারের থালাতেও রয়েছে ঐতিহ্যের ছোঁয়া। এই দিনে বাঙালি হিন্দু পরিবারগুলোতে চৌদ্দ শাক খাওয়ার বিশেষ রীতি প্রচলিত আছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, চৈত্র সংক্রান্তিতে তিতা খাবার খেলে সারা বছর শরীর রোগমুক্ত থাকে। এছাড়া গমের ছাতু, দই এবং পাকা বেলের শরবত দিয়ে আপ্যায়ন করা চৈত্র সংক্রান্তির একটি চিরচেনা দৃশ্য।
পার্বত্য জেলাগুলোতে চৈত্র সংক্রান্তি এক ভিন্ন আমেজে উদযাপিত হয়। চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুক (বৈসাবি) উৎসবের সূচনা হয় এই দিনেই। ঘরবাড়ি পরিষ্কার করা এবং হরেকরকম সবজি দিয়ে তৈরি ‘পাজন’ রান্নার মাধ্যমে তারা বিদায়ী বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে স্বাগত জানায়।
আধুনিকতা ও আগামীর বার্তাকালের বিবর্তনে অনেক লোকাচার হারিয়ে গেলেও চৈত্র সংক্রান্তির আবেদন কমেনি। শহর বা গ্রামে পুরনো সব গ্লানি আর দুঃখ মুছে ফেলে সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায় বাঙালি আজও গেয়ে ওঠে, ‘যাক পুরাতন স্মৃতি, যাক ভুলে যাওয়া গীতি।’ চৈত্র সংক্রান্তির বিদায়ী সূর্য ডুবলেই আসবে পহেলা বৈশাখ শুরু হবে নতুন এক পথচলা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/164938