চিকিৎসাসেবার ‘হাব’ হবে উত্তরের জেলা নীলফামারী : স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব

চিকিৎসাসেবার ‘হাব’ হবে উত্তরের জেলা নীলফামারী : স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব

নীলফামারী প্রতিনিধি : স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, নীলফামারীতে এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল নির্মিত হলে চিকিৎসা সেবার হাব হবে উত্তরের জেলা নীলফামারী।

আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল সংলগ্ন মাঠে চীনের উপহারের এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন শেষে দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, নীলফামারীতে এয়ারপোর্ট আছে। এটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হতে পারে। এখানে রেল ও যোগাযোগ আছে। যা আরও উন্নত হতে পারে। এখানে সড়ক যোগাযোগে মহাসড়ক আছে। সার্বিক যোগাযোগ কাঠামোর সুফলটা আমরা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

এছাড়াও এখান থেকে সার্ক অঞ্চলের যোগাযোগটা সহজ হবে। সেই ক্ষেত্রে এই এলাকাটা চিকিৎসার হাব হবে এবং সেন্টার অব এক্সিলেন্স হবে। সেই বিবেচনায়ও আমরা এই স্থানকে সুপারিশ করেছি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলায় প্রায় আড়াই কোটি জনগণ আছে। এখানে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি রোগ এই সমস্ত রোগগুলো বেশি দেখছি, এসবের ডেটা নিচ্ছি। এখানে কি ধরনের রোগীরা ঢাকা কিংবা রাজশাহী ডিভিশনাল শহরে চলে যায় কিংবা বাইরে চলে যায়। আমরা লক্ষ্য করেছি খুলনা অঞ্চল থেকেই অনেক বড় একটা সার্কেলের রোগীরা বাইরে চলে যায়। তাই সবকিছু বিবেচনায় আমরা নীলফামারীর এই স্থানটি নির্ধারণ করেছি।

এখানে চীনের উপহারের এক হাজার শয্যা বিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী যে হাসপাতাল হবে। তার মধ্যে পাঁচশ’ শয্যা হবে সাধারণ জেনারেল হাসপাতাল এবং পাঁচশ’ শয্যা হবে বিশেষায়িত হাসপাতাল। যে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টগুলো গণপূর্ত, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থাপত্য অধিদপ্তর এবং এনএপিডি এই চারটা কারিগরি প্রতিষ্ঠান কারিগরি দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করে একটা থিমেটিক নকশা তৈরি করে দেবেন। সে অনুসারে গঠিত কমিটির সুপারিশমালাসহ প্রতিবেদন আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নীলফামারী ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে সচিব বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজিসহ আমরা সবাই সদর হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছি। এই চিকিৎসা সেবা আরও কীভাবে উন্নততর করা যায়, মানুষ কীভাবে হাসপাতাল থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, সেই ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেছি। চেষ্টা করব আরও এটাকে ভালো করার জন্য।

নীলফামারী মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়ে সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, আমাদের প্রাথমিক একটা বিবেচনা হল মেডিকেল কলেজটি চীনের উপহারের হাসপাতালটির কাছাকাছি যদি প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে হয়তো ছাত্রছাত্রীরা এখান থেকে আরও সমৃদ্ধ হতে পারবে। উন্নত চিকিৎসা ও টেকনোলজি ব্যবহার করে তারা জ্ঞান অর্জন করে দেশের মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিতে পারবে। আমাদের মেডিকেল কলেজের ডিপিপি প্রক্রিয়াধীন আছে। ইনশাল্লাহ বিষয়টি দ্রুত সমাধান হয়ে যাবে।

সারাদেশের তুলনায় নীলফামারীসহ রংপুর বিভাগে তুলনামূলকভাবে হামের সংক্রমণ কম উল্লেখ করে স্বাস্থ্য সচিব বলেন, নীলফামারী জেলায় শুক্রবার মাত্র তিনজন রোগী হামের উপসর্গ এর সন্দেহ  নিয়ে ভর্তি রয়েছে হাসপাতালের বহিঃবিভাগে। তিনি বলেন, হাম রোগীর সংগ্রহকৃত নমুনা পরীক্ষার ফলাফল যাতে দ্রুত রোগীরা পায় তার জন্য কাজ করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

সারাদেশের বিভাগীয় শহরের ল্যাবগুলো রয়েছে সেই ল্যাবে হাম রোগীর নমুনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। এতে দ্রুত ফলাফল হাতে পেলে হাসপাতাল থেকেও উপসর্গ নিয়ে ভর্তি থাকা রোগীর চাপ কমে যাবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ সচিব  মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালের যৌথভাবে দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে হামের প্রকোপ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে গত ৫ মার্চ পাবানা জেলা থেকে টিকা প্রদান কার্যক্রম উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে টিকা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে যা অব্যাহত রয়েছে।

আগামী ১২ তারিখ থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন এবং ২০ তারিখ থেকে সারাদেশেই হামের টিকা দান কার্যক্রম শুরু হবে। নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হতে গঠিত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সদস্যগণ।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/164654