রাত পোহালেই বগুড়া-৬ আসনের উপ নির্বাচন, প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি ও জামায়াত
স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বগুড়া-৬ সদর আসনের উপ নির্বাচন বৃহস্পতিবার। নির্বাচনে তিনজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকলেও দৃশ্যত: এক প্রার্থী নির্বাচনি ময়দানে না থাকায় মূলত নির্বাচনি লড়াই হচ্ছে বিএনপির প্রার্থী বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা (ধানের শীষ) এবং জামায়াতের প্রার্থী বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল (দাঁড়িপাল্লা)।
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন মোঃ আল-আমিন (ফুলকপি) নির্বাচনি মাঠে না থাকায় তিনি আলোচনার বাইরে রয়ে গেছেন। বিএনপি এবং জামায়াত উভয় দলের প্রার্থী ইতোপূর্বে স্থানীয় সরকারে নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিতহয়েছিলেন।
বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা বগুড়া পৌরসভার মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং জামায়াতের প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল বগুড়া সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এক্ষেত্রে উভয় প্রার্থী নির্বাচনি কৌশলে দক্ষ এবং নিজ নিজ অবস্থানে বিজয়ী ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন, জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট পেয়েছিলেন। উপ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শেষ মুহুর্তে দুই মূলপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের কারণে শহরে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্বাচনের ঠিক আগের দিন আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রিটার্নিং অফিসারের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। অপরদিকে, বিএনপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া-৬ সদর আসনের মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন। পুরুষ ২ লাখ ১৯ হাজার ৯২৩ জন, নারী ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন এবং হিজড়া ভোটার ১০ জন। পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনের কেন্দ্র ১৫০টি, মোট বুথের সংখ্যা ৮৩৫টি।
এর মধ্যে স্থায়ী ৭৮৭টি এবং অস্থায়ী ৪৮টি। ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৫৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এর মধ্যে ৫টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামানো হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, মোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ, ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯৭টি সাধারণ কেন্দ্র রয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো হলো- বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজের পুরাতন (উচ্চ মাধ্যমিক) ভবনের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র, ভান্ডারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং বগুড়া করোনেশন ইনস্টিটিউশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরুষ ও মহিলা কেন্দ্র। এসব অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে প্রতি কেন্দ্রে ৬ জন করে পুলিশ সদস্য এবং ১৫ থেকে ১৬ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ৫ জন করে পুলিশ এবং ১২ থেকে ১৫ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবেন। দায়িত্ব পালন করবেন নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আট প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২ এপ্রিল থেকে তারা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে এবং আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করবে। বগুড়া সদর উপজেলার তিনটি বেইজ ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে বিজিবি সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
তারা সক্রিয়ভাবে টহল ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করেছেন। এছাড়াও ৮ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা থেকে ৯ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ট্রাক, মাইক্রো, ব্যক্তিগত গাড়ী, ট্রাক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এর পাশাপাশি ৭ এপ্রিল রাত ১২টা থেকে ১০ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) নির্বাচনি সকল ষড়ঞ্জাম কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছানো হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতীহীন ভাবে ভোট গ্রহন করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/164424