ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে মারধর, গ্রেপ্তার ১

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে মারধর, গ্রেপ্তার ১

রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) মারধরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাতে উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকার দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। 

অভিযোগ রয়েছে, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা সভাপতি সোহরাব আলী, সাধারণ সম্পাদক জাফর আলীসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে তাকে এবং তার দপ্তরিকে মারধর করেন। হামলার সময় অফিসে ভাঙচুরও করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনার পর রাত ১টার দিকে নুরনবী সরকার বাদি হয়ে থানায় মামলা করেন। মামলায় মামুনুর রশিদ মামুন, সোহরাব আলী, জাফর আলী, জিয়াউর রহমান, রাকিব ফেরদৌসসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

থানা পুলিশ জানায়, মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে পৌর শহরের ভান্ডারা এলাকা থেকে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের দপ্তরি আইয়ুব আলী বলেন, ‘স্যারকে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। আমি অসুস্থ মানুষ। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে নুরনবী সরকার বলেন, ‘এর আগেও অভিযুক্ত মামুন আমার কাছে বিভিন্ন সময় অনৈতিকভাবে ভাগ দাবি করেছেন। আমি তা প্রত্যাখ্যান করায় তিনি ক্ষিপ্ত হন। পরিকল্পিতভাবে অফিসে এসে আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমার শার্টের কলার ধরে টানা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং অফিসে ভাঙচুর করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের ডকুমেন্ট তছনছসহ ফাইলে যাবতীয় কাগজপত্র ছিড়ে ফেলেন এবং কিছু নথিপত্র হারিয়ে গেছে, তিনি আরও বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মামুনুর রশিদ মামুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, সন্ধ্যায় অফিস খোলা থাকায় তিনি সেখানে যান। পরে বাকবিতন্ডার একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ের সিঁড়িতে তার ওপর হামলা করা হয়। তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ আনেন।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থানীয় নেতারা। উপজেলা বিএনপির সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নুর আলিফ বলেন, ‘সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানায়।’

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/164289