দায়িত্ব নিয়েই নিজের পরিকল্পনা জানালেন তামিম, দিলেন নির্বাচনের ডাক
স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) হঠাৎ পরিবর্তনের পর নতুন বাস্তবতায় যাত্রা শুরু করেছে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সিদ্ধান্তে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন আয়োজনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে তুলে ধরেছেন নতুন সভাপতি।
আজ মঙ্গলবার ঘোষণার পরই দ্রুত বিসিবি কার্যালয়ে যান তামিম। সেখানে নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করেন তিনি। সন্ধ্যার সেই বৈঠকে সরাসরি ও অনলাইনে যুক্ত হন সব সদস্য। বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে ওঠে-এই কমিটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে।
তামিম বলেন, ‘অবশ্যই আমরা নির্বাচন করব। আমার ইচ্ছা থাকতে পারে আমি করতে পারি বা তার ইচ্ছা থাকতে পারে। তিনি করতে পারেন। তার ইচ্ছা নাও থাকতে পারে। আর যখন একটা স্বচ্ছ নির্বাচন হবে, তখন শুধু আমরা না। যাঁরা যাঁরা আগ্রহী সবাইকে অনুরোধ করব অংশ নিতে।’
তার বক্তব্যে উঠে আসে অন্তর্বর্তী কমিটির সীমিত সময়ের বাস্তবতাও। তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে-এই লক্ষ্য নিয়েই কাজ শুরু করতে চান তারা। তামিম বলেন, ‘আমাদেরকে একটি দায়িত্ব দিয়ে আনা হয়েছে সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা, তিন মাসের মধ্যে। আমাদেরকে যে দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে আমরা যতটা সততার সঙ্গে এবং যতটা দ্রুতভাবে আমরা করতে পারি আমরা ওই জিনিসটাই করব।’
তবে নির্বাচন আয়োজনই একমাত্র লক্ষ্য নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটিও গুরুত্ব পাচ্ছে নতুন নেতৃত্বের কাছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর তামিম বলেন, ‘কেউ যখন দায়িত্ব পান তখন ডেভেলপমেন্টের কথা বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। আমি এবং আমার দল (অ্যাডহক কমিটি) ব্যক্তিগতভাবে এটা ফিল করে যে, আমাদের প্রথম কাজ হবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের রেপুটেশন ঠিক করা।’
এই প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, ‘গত এক-দেড় বছরে যে রেপুটেশন ড্যামেজ হয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের, এটা ঠিক করাই হচ্ছে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
এর আগে সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়িয়েছিলেন তামিম। সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে তখন নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন তিনি।