চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ক্ষতির শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে আম ও ধানের ক্ষতির শঙ্কা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আঘাত হেনেছে মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টি। আজ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ৪টার পর থেকেই হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। সোয়া ৪টা নাগাদ মাঝারি শিলাবৃষ্টি শুরু হয় যা ক্রমান্বয়ে কোথাও কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সাথে কয়েক মিনিটের ভারী শিলাবৃষ্টিতে রুপ নেয়। সাড়ে ৪টার পর শিলাবৃষ্টি কমতে থাকে এবং বিকেল পোনে ৫টায় বৃষ্টি ও শিলাপড়া সম্পূর্ণ বন্ধ হয়।

এদিকে শিলাবৃষ্টির পর জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আম এবং মাঠে শিষ ফুটতে থাকা বোরো-ইরি ধান এবং  জমিতে থাকা অল্প গম, বুট, যব, মসুর, খেসারীর মত রবিশষ্য নিয়ে ক্ষতির শঙ্কা করছেন কৃষকরা। শিলাবৃষ্টির সময়ই ঝরে গেছে অনেক আমের গুটি। গাছের নিচে বিছিয়ে আছে গুটিগুলো। আনেক গুটি ফেটে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. ইয়াসিন আলী বলেন, মাঠ থেকে পুরো খবর আসার পরই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও করণীয় বলা যাবে। সমগ্র জেলাজুড়ে পাঁচ উপজেলাতেই শিলাবৃষ্টি হয়েছে। বেশি হয়েছে শিবগঞ্জ এবং কম হয়েছে ভোলাহাট উপজেলায়।

সদরের চরাঞ্চলে শিলাবৃষ্টি তেমন হয় নি।  বিছিন্নভাবে বিভিন্ন এলাকায় কমবেশি শিল পড়ায় তেমন ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হয় না। তবে মাঠ থেকে রিপোর্ট আসলে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানা যাবে। সদর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, আম ও ধানে দ্রুত ছত্রাকনাশক দিয়ে ক্ষতি কমানো যায়। তবে তা সব স্থানে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। আমে কিছু ক্ষতি হবে বলে তিনি স্বীকার করেন।

সদরের বিদিরপুর গ্রামের আমচাষি বিষু মিয়া বলেন, এবার আমের গুটি মুকুলের তুলনায় কম। এর উপরে শিলাবৃষ্টিতে গুটি আমের ক্ষতি হবে। কয়েকদিনে ঝরে যাবে বেশিরভাগ আঘাতপ্রাপ্ত আম। আমে দাগ হবে, ফলন কমবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, জেলায় ৪৭ হাজার ৭৬৫ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আম উৎপাদন এলাকা হলো ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর। গম চাষ হয়েছে ৩১ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে যার ৮০ শতাংশ কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/164228