ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর রকেট নিয়ে যে তথ্য দিলো ইসরায়েল

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও হিজবুল্লাহর রকেট নিয়ে যে তথ্য দিলো ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান এখনো এমন এক হাজারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ধরে রেখেছে, যেগুলো ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম। এমনটাই বলছে ইসরায়েলি সামরিক মূল্যায়ন। অন্যদিকে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অস্ত্রভান্ডারে রয়েছে প্রায় ১০ হাজার স্বল্পপাল্লার রকেট। ইসরায়েলের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় এগুলো এখনো দেশটির জন্য বড় হুমকি। ইসরায়েলের সামরিক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১২ এই তথ্য জানিয়েছে। খবর : মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।

চ্যানেল ১২ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর এক কর্মকর্তা ইরানের অবশিষ্ট ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা প্রকাশ করেন। তেহরানের অস্ত্রভান্ডারের হিসাব প্রকাশে আগে যে অনীহা ছিল, এটি তার থেকে একধরনের আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসা বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহর হাতে ৮ হাজার থেকে ১০ হাজার রকেট রয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে আর্মি রেডিও। বর্তমানে ইরান ও তার মিত্র হিজবুল্লাহ যেভাবে ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে সংঘাত শুরু হওয়ার পাঁচ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এই হিসাব ইঙ্গিত দিচ্ছে-যুদ্ধ আরও কয়েক মাস গড়াতে পারে। যদিও ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের মূল লক্ষ্য অর্জিত হচ্ছে। তবে ইরান ও হিজবুল্লাহ কেউই তাদের অস্ত্রভান্ডারের আকার নিয়ে মন্তব্য করেনি। আবার পিছু হটার কোনো লক্ষণও দেখায়নি।

ইরানের হামলার সক্ষমতা নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিমানবাহিনীর ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিনিয়োগ করতে হবে। সত্যি বলতে, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি-এটা কখনোই শূন্যে নামবে না।’ সামরিক নিয়ম অনুযায়ী নাম প্রকাশ না করা ওই লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ মন্তব্য করেন।

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের কাছে প্রায় দুই হাজার মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল, যেগুলো ইসরায়েলে আঘাত হানতে সক্ষম। কিছুদিন আগে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তা ব্লুমবার্গকে এই তথ্য জানিয়েছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফের মতে, এর মধ্যে ৫০০টির বেশি ইতিমধ্যে ইসরায়েলের দিকে নিক্ষেপ করা হয়েছে এবং আরও কিছু ইরানের ভূখণ্ডেই ধ্বংস করা হয়েছে। চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, তেহরান পার্বত্য অঞ্চলে থাকা বহু টানেল সাইলো থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে, যেগুলো আগেভাগে ধ্বংস করা কঠিন। তিনি বলেন, ‘এই হামলা ঠেকাতে আমরা আরও বেশি কিছু করতে পারব কি না, তা নিয়েও আমি নিশ্চিত নই।’

এদিকে লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর দুই দিন পর সীমান্ত পেরিয়ে রকেট হামলা চালিয়ে এই ফ্রন্ট আবার সক্রিয় করে তেহরানের এই মিত্র। প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০টি পর্যন্ত রকেট ছোড়া হচ্ছে, যার বেশিরভাগই দক্ষিণ লেবাননে প্রবেশ করা ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে। এছাড়া, আইডিএফের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, হিজবুল্লাহর অবশিষ্ট রকেট সংখ্যা নিয়ে আর্মি রেডিও যে তথ্য দিয়েছে, সেটি সঠিক।

উত্তর ইসরায়েলের ভেতরে পৌঁছানো রকেট হামলার কারণে হাজার হাজার বেসামরিক মানুষকে প্রায় সারাক্ষণ বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকতে হচ্ছে। ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তুলনামূলক কম হলেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন কেন্দ্রীয় শহরের বাসিন্দারাও। আইডিএফ জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর রকেটের আওতায় থাকা এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের আরও বেশি সময়-যদিও তা অনেক সময় কয়েক সেকেন্ড মাত্র-আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ দিতে তাদের উৎক্ষেপণ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি আরও উন্নত করা হচ্ছে।

এরই মধ্যে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরানোর কিছু প্রচেষ্টাও দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা চলতি সপ্তাহে ধীরে ধীরে সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান চালুর ঘোষণা দিতে পারে। একই সঙ্গে ইসরায়েল এয়ারপোর্টস অথোরিটি বহির্গামী ফ্লাইটে যাত্রীর সংখ্যা বাড়াচ্ছে। এছাড়া আইডিএফের জনসমাগম-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ মেনে সিনেমা হলগুলোতেও প্রদর্শনী পুনরায় শুরু হয়েছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163980