বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে

বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার : এবার বগুড়াবাসী পূণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পেতে যাচ্ছে। বগুড়ায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থলে পূণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার জন্য একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে এই কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে। ৬ সদস্যের এই কমিটিতে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ আলিফ রুদাবাকে সভাপতি করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মাছুমা হাবিব, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রয়েসর ড. মোহা. হাছানাত আলী, যুগ্ম সচিব (নিরিক্ষা ও আইন অনুবিভাগ) জহিরুল ইসলাম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আইন কর্মকর্তা মো. ফাহিম ফয়সাল এবং কমিটির সদস্য সচিব সিনিয়র সহকারি সচিব, (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) নাঈম খন্দকার।

বগুড়ায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় করার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহকারী সচিব মো.শাহ আলম সিরাজ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই কমিটি গঠনের কথা জানান হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ৩৭.০০.০০০০.০৭৬.২২.০০১.২১.৫০ স্মারকে ৩১ মার্চ সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০১’ সংশোধন করার লক্ষে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটি বিদ্যমান আইন বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতে সংশোধন, পরিবর্তন,পরিবর্ধন,পরিমার্জন করবে। ৬ সদস্যের কমিটিকে ৮ কর্মদিবসের মধ্যে আইন সংশোধন করে শিক্ষামন্ত্রী সমীপে উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে। কমিটি গঠনের পর ইতোমধ্যে গতকাল পর্যন্ত ৩ কর্মদিবস শেষ হয়েছে। আগামী ১২ এপ্রিল ৮ কর্ম দিবস শেষ হবে।
এই কমিটির সদস্যরা ইতোমধ্যে অনেক অগ্রসর হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া-৬ সদর আসনের উপ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা গতকাল শনিবার বগুড়া প্রেসক্লাবে বগুড়ায় পুর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কথাটি নিজ মুখে বলেছেন।

উল্লেখ্য ২০০১ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হয়। বিভিন্ন বাধার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ২০১৮ তে সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩ সালের ১০ মে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বাস্তবায়নের জন্য সরকার এস আরও জারি করে। বর্তমানে বগুড়া শহরের উপশহরে বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম পরিচালিত করার জন্য  অস্থায়ী কার্যালয় করা হয়েছে।

দীর্ঘ ২৪ বছর পর রাষ্ট্রপতি ২০২৫ সালের ৩ জুন ড. মো. কুদরত-ই-জাহান কে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০২৩ সালের ১০ মে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। এতে বলা হয়, ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ক্ষমতাবলে সরকার ২২ মে থেকে এই আইনটি কার্যকর করার তারিখ নির্ধারণ করেছে।’ ২০২৬ সালের ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) বিশ্ববিদ্যালয়টিতে একটি অনুষদের অধীনে দুটি বিভাগ চালুর প্রাথমিক প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163935