বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি মাগুরা মার্কা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে : সংবাদ সম্মেলন আবিদুর রহমান

বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি মাগুরা মার্কা নির্বাচনের পাঁয়তারা করছে : সংবাদ সম্মেলন আবিদুর রহমান

স্টাফ রিপোর্টার : বগুড়া-৬ (সদর) আসনের উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের বাধা প্রদানের অভিযোগ করে জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান বলেছেন, বিএনপি বগুড়ায় আরেকটি মাগুরা মার্কা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে। প্রশাসন বিএনপি’র বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ আমলে নিচ্ছে না। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ না করলে কোন ভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। ৯ এপ্রিলের উপ-নির্বাচনে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করা হলে শক্ত হাতে তা প্রতিহত করা হবে।

আসন্ন উপ-নির্বাচনের প্রচারণায় ক্রমাগত আচরণ বিধি লঙ্ঘন এবং প্রশাসনের নিরব ভূমিকার বিরুদ্ধে আজ শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া শহর জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করে আবিদুর রহমানর তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, এর আগেও তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনিয়ম তুলে ধরেছিলেন।

কিন্তু নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততোই বিরোধী পক্ষ ধানের শীষের লোকজন নির্বাচনি পরিবেশ অশান্ত করে তুলছেন। শাখারিয়া ইউনিয়ন বিএনপি নেতৃবৃন্দ তাদের মহিলা কর্মী মাজেদা বেগমের বাড়িতে দুইবার গিয়ে হুমকি দিয়েছেন। ফাঁপোড় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা কামাল হোসেন, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সেক্রেটারি মিজানুর করিম মাসুদ দলীয় কর্মীদেরকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণা চালাতে নিষেধ এবং হুমকি দিচ্ছেন।

২০ নং ওয়ার্ডে উঠান বৈঠকের সংবাদ পেয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা হাতকাটা শম্বুর নেতৃত্বে সমাবেশ পন্ডের হুমকি দেওয়া হয়। এরুলিয়া এলাকায় মহিলা কর্মী নাজনিন আক্তারকে বিএনপি দলীয় পোটল তার মহিলা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে মারধর করেন, ফাঁপোড় এলাকায় নেছার উদ্দিনকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এছাড়া সমগ্র আসনে ব্যানার, ফেস্টুন খুলে ফেলে ধানের শীষের ব্যানার টাঙ্গিয়েছে।

বিএনপি দলীয় প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত নানা ধরনের আচরণবিধি লঙঘন করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে রিটার্নিং অফিসার এবং অনুসন্ধান ও বিচারিক জজের কাছে মোট ১৫টি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক অভিযোগের সাথে সচিত্র ভিডিও আছে। কিন্তু প্রশাসন এখন পর্যন্ত একটি অভিযোগের বিরুদ্ধেও দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন-বিএনপি দলীয় প্রার্থী গোটা বগুড়া থেকে সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে ভোটের দিন কেন্দ্র দখলে নিয়ে ভোট ডাকাতি করবে। এমতাবস্থায় বগুড়া সদরের নির্বাচন সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে তার দাবি হচ্ছে-

১. আচরণ বিধি লঙ্ঘনের অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ।

২. চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার।

৩. নির্বাচনের দিন প্রত্যেক ভোট কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো।

৪. দলীয় প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ বাতিল এবং

৫. নির্বাচনের আগে থেকে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং ভোটের দিন সেনাবাহিনীসহ বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলাবাহিনী নিয়োগ করা।

তিনি আসন্ন উপ-নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান। সংবাদ সম্মেলনে-জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক আ.স.ম আব্দুল মালেক, সদস্য সচিব মাওলানা আব্দুল হাকিম সরকার, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, আল-আমিন, আব্দুল হালিম বেগ, আব্দুস ছালাম তুহিন, আজগর আলী, ইকবাল হোসেন, শাহীন মিয়া, নুরুল ইসলাম আকন্দ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163775