সেরা রাউটার চেনার সহজ ৩ উপায়

সেরা রাউটার চেনার সহজ ৩ উপায়

বর্তমান সময়ে একটি পরিবারের মধ্যে একাধিক স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্ট টিভি, ট্যাব কিংবা অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহার করা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, বাড়ির এক প্রান্তে ইন্টারনেটের গতি ভালো থাকলেও অন্য প্রান্তে সিগন্যাল খুব দুর্বল হয়ে যায় কিংবা একেবারেই পাওয়া যায় না। এই সমস্যার মূল কারণ সাধারণত সঠিক রাউটার না বেছে নেওয়া। তাই নতুন রাউটার কেনার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করলে পুরো বাড়িতেই স্থিতিশীল ও দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহার করা সম্ভব।

১. কভারেজ বা সিগন্যাল পৌঁছানোর ক্ষমতা
রাউটার নির্বাচন করার ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখতে হবে সেটি কত বড় জায়গায় সিগন্যাল দিতে পারে। ছোট বাসা হলে সাধারণ রাউটারেই কাজ চলে যায়, কিন্তু বড় বাসা বা একাধিক তলা থাকলে শক্তিশালী রাউটার প্রয়োজন হয়। যেমন-৮০০ থেকে ১২০০ স্কয়ার ফিটের বাসার জন্য মাঝারি কভারেজের রাউটারই যথেষ্ট। তবে ১৫০০ থেকে ৩০০০ স্কয়ার ফিট বা দুই-তিন তলা বাড়িতে সাধারণ রাউটার ব্যবহার করলে অনেক জায়গায় ‘ডেড জোন’ তৈরি হতে পারে।

এই ক্ষেত্রে মেশ ওয়াই-ফাই সিস্টেম ভালো সমাধান। এতে একটি মূল রাউটার ও কয়েকটি অতিরিক্ত নোড থাকে, যেগুলো একসঙ্গে কাজ করে বাড়ির প্রতিটি অংশে সমানভাবে সিগন্যাল ছড়িয়ে দেয়। ফলে বাড়ির কোনো অংশেই দুর্বল নেটওয়ার্কের সমস্যা থাকে না।

২. ব্যান্ড প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের গতি
রাউটারের ব্যান্ড প্রযুক্তিও ইন্টারনেটের গতি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। পুরোনো ধরনের রাউটার সাধারণত শুধু ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে কাজ করে। এই ব্যান্ডের সিগন্যাল দূর পর্যন্ত পৌঁছালেও গতি তুলনামূলক কম হয় এবং বেশি ডিভাইস যুক্ত হলে নেট ধীর হয়ে যায়। এ কারণে এখন ডুয়াল ব্যান্ড রাউটার বেশি জনপ্রিয়। এতে ২.৪ গিগাহার্টজের পাশাপাশি ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড থাকে। ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ডে ইন্টারনেটের গতি বেশি পাওয়া যায়, যদিও সিগন্যাল খুব বেশি দূর যায় না।

যদি একসঙ্গে অনেক ডিভাইস ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে, তাহলে ট্রাই-ব্যান্ড রাউটার আরও ভালো পারফরম্যান্স দিতে পারে। এছাড়া নতুন ওয়াই-ফাই ৬ প্রযুক্তি সমর্থিত রাউটার বেশি ডিভাইস দক্ষভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং নেটওয়ার্কের স্থিতিশীলতাও বাড়ায়।

৩. বাজেট ও ব্যবহার অনুযায়ী নির্বাচন
রাউটার কেনার সময় নিজের প্রয়োজনের পাশাপাশি বাজেটও গুরুত্বপূর্ণ। ছোট বা মাঝারি বাসার জন্য তুলনামূলক কম দামের ডুয়াল ব্যান্ড রাউটারই যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু বড় বাসা বা উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নত মানের রাউটার বা মেশ সিস্টেমে বিনিয়োগ করা ভালো।

রাউটার কেনার সময় আরও কিছু বিষয় খেয়াল করা উচিত। যেমন অ্যান্টেনার সংখ্যা বেশি হলে সিগন্যাল কভারেজ সাধারণত ভালো হয়। গিগাবিট ইথারনেট পোর্ট থাকলে তারযুক্ত সংযোগে বেশি গতি পাওয়া যায়। এছাড়া সহজ সেটআপ ব্যবস্থা, মোবাইল অ্যাপ সাপোর্ট এবং ভালো ব্র্যান্ডের দীর্ঘমেয়াদি ওয়ারেন্টি থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও কিছু পরামর্শ
রাউটার এমন জায়গায় রাখুন, যেখানে সিগন্যাল সহজে চারদিকে ছড়াতে পারে সাধারণত বাড়ির মাঝামাঝি ও উঁচু জায়গা সবচেয়ে উপযোগী। দেয়ালের ভেতর বা আলমারির মধ্যে রাউটার রাখলে সিগন্যাল দুর্বল হয়ে যেতে পারে। দ্রুতগতির কাজের জন্য ৫ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা ভালো, আর দূরের ডিভাইস বা স্মার্ট টিভির মতো যন্ত্রের জন্য ২.৪ গিগাহার্টজ ব্যান্ড ব্যবহার করা সুবিধাজনক।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163694