৫ দিন পর বগুড়া-৬ এর উপ নির্বাচন : এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপি জামায়াত
স্টাফ রিপোর্টার : মাঝে আর ৫ দিন। এর পরই বগুড়া-৬ (সদর) আসনের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপ নির্বাচন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই আসন থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছিলেন। তিনি ঢাকা ১৭ আসন থেকেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঢাকা-১৭ আসনটি রেখে বগুড়া সদর আসন ছেড়ে দেওয়ার পর এই আসনে উপনির্বাচন হচ্ছে। এই আসনে নতুন মুখ নির্বাচন করে জাতীয় সংসদে পাঠাবেন বগুড়া সদরের ভোটাররা।
উপ নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন উপলক্ষে ৯ এপ্রিল সরকার বগুড়া-৬ সদর আসনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যে রকম উৎসব মুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিলো উপ নির্বাচনে সেরকম উৎসব মূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়নি।
মূলত উপ নির্বাচনটা এক ধরনের সাদামাটা নির্বাচন হচ্ছে বলে মনে করছেন এই আসনের ভোটাররা। ভোটাররা মনে করছেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে যে রকম দল বেধে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া, মিছিল মিটিং মাইকিং হয়েছে এবার সে রকমটা নেই। ফলে নির্বাচনটা সাদামাটা ভাবে হচ্ছে এটা বলছেন, বগুড়া শহরের সূত্রাপুরের বাসিন্দা সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. সামছুল আলম।
একইভাবে শহরের হাকির মোড় এলাকার ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন জানান, উপ নির্বাচনটা সাদামাটা হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি কম হতে পারে। ১২ ফেব্রুয়ারি যে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন সেই সব ভোটাররা এই নির্বাচনে ভোট নাও দিতে আসতে পারেন। ফলে উপ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমতে পারে এই নির্বাচনে।
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বগুড়া সদর আসন থেকে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও উপ নির্বাচনে মাত্র তিন জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি‘র প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবিদুর রহমান সোহেল এবং বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মো. আল আমিন তালুকদার।
জামায়াতে ইসলামীর আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এবং রেজাউল করিম বাদশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালালেও ফুল কপি প্রতীক পাওয়া মো. আল আমিন কোন প্রচার প্রচারণায় নাই। নির্বাচনী এলাকার কোথাও তার একটা লিফলেট দেখা যায়নি। এমনকি তার বাড়ির সামনেও কোন প্রচার পত্র দেখা যায়নি। বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির বগুড়ায় কোন দলীয় কার্যালয় বা জেলা কমিটি না থাকায় তার কোন কর্মী নেই নির্বাচনী এলাকায়।
এমনকি দৈনিক করতোয়া‘র পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মূলত উপ নির্বাচনটা হচ্ছে বিএনপি এবং জামায়াতের প্রার্থীর মধ্যে। জামায়াতে ইসলামী এবং বিএনপির প্রার্থী দিন রাত প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন করে বিজয়ী হন।
তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ছিলেন জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল। উপ নির্বাচনেও তিনি বিএনপি‘র প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশার প্রতিদ্বন্দ্বি হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মনে করছেন ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জামায়াতের প্রার্থী ভোট পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। সেই ভোট তারা ধরে রাখার চেষ্টা করার পাশাপাশি কিছু ভোট বৃদ্ধি হবে বলে তারা আশা করছেন।
একইভাবে বিএনপির কর্মীরা মনে করছেন তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছিলেন। বগুড়া বিএনপির ঘাটি। তাই এই উপ নির্বাচনেও তারা দুই লাখ ভোট আশা করছেন। তারা মনে করছেন ভোটার উপস্থিত কম হলেও বিএনপির ভোট আনুপাতিক হারে বাড়বে।
এদিকে জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তাদের মধ্যে ২ লাখ ১৯ গাজার ৯২৩ জন পুরুষ, ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৭৪ জন নারী এবং ১০ জন হিজরা ভোটার রয়েছেন। মোট ১৫০ টি ভোট কেন্দ্রে ৭৮৭টি স্থায়ী এবং ৪৮টি অস্থায়ী ভোট কক্ষসহ মোট ৮৩৫টি কক্ষে ভোট গ্রহন করা হবে। পোস্টাল ব্যালট পেপারে ভোট প্রদানের জন্য ২ হাজার৮৭৩ জন পুরুষ এবং ৮৬৩ নারী ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163604