বগুড়ার ধুনটে পুলিশের চোখে পলাতক ধর্ষণ মামলার আসামি চাকরি করছেন দিব্যি
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার ধুনট উপজেলার সাতটিকরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী কাম নৈশ প্রহরী রোকনুজ্জামান (৪০) একটি ধর্ষণ মামলার আসামি। তিনি পুলিশের চোখে পলাতক হলেও প্রতিদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় সই করে দায়িত্ব পালন করেছন। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় সরেজমিন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে হাজিরা খাতায় তার সই করা দেখা গেলেও তাকে কর্মস্থলে পাওয়া যায়নি। এ সময় তার মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান দাবি করেন, রোকনুজ্জামান হাজিরা খাতায় সই করে জরুরি কাজে বাড়িতে অবস্থান করছেন। এছাড়া তিনি নিয়মিত ভাবে চাকরি করেন। কিন্ত পুলিশ বলছে, ধর্ষণ মামলার আসামি রোকনুজ্জামানকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। থানায় মামলা দায়েরের পর তিনি পলাতক আছেন। রোকনুজ্জামান উপজেলার গোপালনগর ইউনিয়নের সাতটিকরী গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সাতটিকরী গ্রামের এক কৃষকের মেয়েকে (৩৭) দীর্ঘদিন ধরে কু-প্রস্তাব দেন রোকনুজ্জামান। কিন্ত রোকনুজ্জামানের প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় গত ৬ ফেব্রুয়ারি দুপুর দেড়টায় মেয়েটিকে বাড়ির অদুরে রাস্তা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে ধুনট শহরে একটি ভাড়া বাসায় এনে ধর্ষণ করে সে। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌছুলে রোকনুজ্জামান কৌশলে সটকে পড়েন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটি ৮ ফেব্রুয়ারি বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের আদেশ পেয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি থানায় মামলাটি রেকর্ডভুক্ত করেছেন ওসি। এ বিষয়ে ধুনট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সইয়্যেদা জাহান বানু বলেন, থানা থেকে মামলার বিষয়টি আমাকে অবগত করা হয়নি। তারপরও খোঁজ খবর নিয়ে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ধুনট থানার এসআই সিরাজুল ইসলাম বলেন, ব্যস্ততার কারণে আসামি রোকনুজ্জামানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জেনেছি রোকনুজ্জামান বাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163507