১৬ ঘণ্টায়ও স্বাভাবিক হয়নি সিলেটের সঙ্গে রেল যোগাযোগ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর এ পথে ১৬ ঘণ্টা ধরে বন্ধ রয়েছে রেল যোগাযোগ।
গতকাল বুধবার (১ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে জানিয়েছেন, দেড় ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ দুপুর আড়াইটার মধ্যে এ রুটে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হতে পারে।
অন্যদিকে রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাজমুল হক জানান, দুর্ঘটনার পর রেল যোগাযোগ দ্রুত স্বাভাবিক করতে জোরেশোরে কাজ চলছে। একটি বগি সেতুর নিচে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। এছাড়া বাকি বগি ও রেললাইন ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার মধ্যে কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।
দুর্ঘটনায় ট্রেনটির অন্তত ছয়টি তেলবাহী ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বগি রেললাইন থেকে ছিটকে পাশের জমিতে গিয়ে পড়ে। কিছু বগি দুমড়েমুচড়ে গেছে। একটি ওয়াগন পাশের একটি সেতুর নিচে খাদে পড়ে যাওয়ায় উদ্ধার কাজ জটিল হয়ে পড়েছে। দুর্ঘটনার পর ওয়াগনগুলো ফুটো হলে তেল বের হয়ে আশপাশের মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
রাত ১২টার পর রেলওয়ের উদ্ধারকারী দল রিলিফ ট্রেন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও মেরামত কাজ শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন ও বগি সরিয়ে যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে রাতভর কাজ চালিয়ে যান সংশ্লিষ্টরা।
মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম জানান, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানা যায়নি। উদ্ধার কাজ চলছে। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিকে সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিভিন্ন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের অনেককেই টিকিট ফেরত দিয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে।
নোয়াপাড়া রেলস্টেশনের যাত্রী সালাউদ্দিন বলেন, তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই টিকিট কেটেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।
শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানার ওসি খাইরুল ইসলাম তালুকদার জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বিজিবি, সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। রেলওয়ের কর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে কাজ চালানো হচ্ছে।
অতিরিক্ত গতির কারণে দুর্ঘটনা!
রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রেনের অতিরিক্ত গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
লাইনচ্যুত ওয়াগনের তেল লুটপাট ঠেকাতে সক্রিয় বিজিবি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার পর রাত থেকেই কিছু মানুষ ঝুঁকি নিয়ে লাইনচ্যুত ওয়াগন থেকে তেল সংগ্রহ করতে শুরু করে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সাধারণ মানুষকে সরিয়ে দেয়।
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মোর্শেদ জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা রাত থেকেই উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। এ সময় ছড়িয়ে পড়া তেলের মধ্যে প্রায় ১ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করা হয়েছে। লুটপাট ঠেকাতে তারা সক্রিয় ছিলেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163452