শিবপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রবাসীর কবরস্থানে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক জার্মান প্রবাসীর পারিবারিক কবরস্থানে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে উপজেলার বাঘাব ইউনিয়নের সফরিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রশিদ মাস্টারের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কবরস্থানে হামলা চালিয়ে দেয়াল ভাঙচুর করে এবং ভীতি প্রদর্শন করে।
ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, প্রায় ৩০ বছর ধরে জার্মানে বসবাস করছেন জাহাঙ্গীর সৈয়দ। গত ৭ মার্চ তার স্ত্রী ঝর্ণা সৈয়দ মারা গেলে তাকে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সম্প্রতি কবরস্থানের জায়গায় রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগীরা রাস্তা দিতে রাজি থাকলেও প্রতিপক্ষ তাদের ভয়ভীতি দেখায় এবং একপর্যায়ে কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে ফেলে।
জাহাঙ্গীর সৈয়দের ভাইয়ের জায়গায় পারিবারিক কবরস্থানে ঝর্ণা সৈয়দকে দাফন করা হয়। তবে ওই জায়গার ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে হামলা চালানো হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।
জাহাঙ্গীর সৈয়দের ছেলে রাজিব বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে আছেন। আমার মায়ের কবরস্থানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযুক্তরা প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
ভুক্তভোগীর ভাই গুলজার বলেন, কবরস্থানের দেয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। তারা রাস্তার জন্য এক ফুট জায়গা চেয়েছিল, আমরা তাতেও রাজি হয়েছিলাম। তবুও তারা এ ধরনের কাজ করেছে। এমনকি রাজমিস্ত্রীরা কাজ করতে এলে তাদের হাত-পা কেটে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় জমি ও রাস্তা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা তাদের
অভিযুক্ত বাঘাব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রশিদ মাস্টার অস্বীকার করে বলেন, এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। তারা আগে রাস্তা দেওয়ার কথা বলেছিল। পরে দেয়াল তুলে পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেয়। এরপর কী হয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এ ব্যাপারে শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কোহিনূর মিয়া বলেন, তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা হবে।