গোপনে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

গোপনে পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বৈশ্বিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে চীন গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করছে। সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। স্যাটেলাইট চিত্র, সরকারি নথি এবং বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সিচুয়ান প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় পারমাণবিক অস্ত্র উৎপাদন ও গবেষণা কেন্দ্রগুলো দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিশেষভাবে আলোচিত ‘সাইট ৯০৬’-এ গত কয়েক বছরে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০২২ সালে ওই এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ভূমি অধিগ্রহণ ও উচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তুললে কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়-এটি ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’। স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, উচ্ছেদ করা গ্রামগুলো এখন সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে এবং সেখানে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সাইট ৯০৬-এ নির্মিত একটি বিশাল গম্বুজ আকৃতির স্থাপনা বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। প্রায় ৩৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই স্থাপনাটি কংক্রিট ও ইস্পাত দিয়ে ঘেরা, যেখানে বিকিরণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বিস্ফোরণ প্রতিরোধক দরজা এবং জটিল পাইপলাইন নেটওয়ার্ক রয়েছে-যা পারমাণবিক উপাদান ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের অবকাঠামো ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের মতো উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় পদার্থ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে সাইটটির চারপাশে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং পাহাড়ের ভেতরে প্রবেশ করা টানেলও রয়েছে, যা এর কৌশলগত গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই উন্নয়ন চীনের পারমাণবিক কর্মসূচির একটি বড় ধরনের আধুনিকায়নের ইঙ্গিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনও দাবি করেছে, বেইজিং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পারমাণবিক আধুনিকায়ন কর্মসূচি চালাচ্ছে।

বর্তমানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে থাকা সর্বশেষ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে চুক্তির আলোচনা সামনে এসেছে, যেখানে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সিচুয়ানের এসব স্থাপনার দ্রুত সম্প্রসারণ জানান দিচ্ছে, চীন তার কর্মসূচি কমানোর কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সিচুয়ানের জিতং অঞ্চলে অবস্থিত একাধিক পারমাণবিক স্থাপনার মধ্যে নতুন সড়ক ও রেল সংযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা একটি সমন্বিত উৎপাদন নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে ‘সায়েন্স সিটি’ নামে পরিচিত গবেষণা কেন্দ্রেও ব্যাপক সম্প্রসারণ হয়েছে, যেখানে শত শত ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দ্রুত সম্প্রসারণ পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য ‘ডার্ক জোন’ তৈরি করছে, যেখানে চীনের প্রকৃত সক্ষমতা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই প্রবণতা একটি নতুন বৈশ্বিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্ম দিতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন তিনটি বড় শক্তি হিসেবে মুখোমুখি হবে।

যদিও চীন বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক নীতি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং তারা ‘প্রথমে ব্যবহার না করার’ নীতি অনুসরণ করে। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এবং অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163434