‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’, ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে ইয়ামালের প্রতিবাদ

‘আমি মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ’, ইসলামবিদ্বেষী স্লোগানে ইয়ামালের প্রতিবাদ

স্পোর্টস ডেস্ক : স্পেনের মাঠে খেলতে গিয়ে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে মিসরের ফুটবল দল। বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগান দিয়ে স্প্যানিশ ফুটবলে কলঙ্কের দাগ লাগিয়েছে স্বাগতিক সমর্থকরা। স্পেনে বর্ণবাদের কারণে নানান সময়ে বিতর্কের মুখে পড়েছে দেশটির দর্শক-সমর্থকরা। নতুন করে ধর্মবিদ্বেষী অবস্থান নেওয়ায় সমালোচিত হলো তারা। এই ঘটনায় তাদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানের কথা স্পষ্ট জানিয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল কর্তৃপক্ষ ও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। এবার মুখ খুললেন স্পেনের তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল ।

গত (মঙ্গলবার) রাতে মার্চ উইন্ডোর সর্বশেষ প্রীতি ম্যাচে মিসরকে আতিথ্য দেয় স্পেন। পুরো ম্যাচে কেউ গোলের দেখা পায়নি। এর আগে প্রথমার্ধে মুসলিম বিরোধী শোরগোল তুলতে শোনা যায় স্প্যানিশ সমর্থকদের।

একাধিকবার বিতর্কিত ওই ঘটনার পর খেলার বিরতিতে দর্শকদের সতর্ক করে জায়ান্ট স্ক্রিনে বার্তা দেয় এস্পানিওল আরসিডিই স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সেটিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিষ বাজানোর পর দ্বিতীয়ার্ধেও একই বার্তা দেওয়া হয়। যেখানে বলা হয়, যেকোনো বিদ্বেষী আচরণ ও গান গাওয়া থেকে দর্শকদের বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।

এনিয়ে স্পেনের শীর্ষ ফুটবল সংস্থা নিন্দা জানিয়েছে। এবার ইয়ামাল সোশাল মিডিয়ায় নিজের অবস্থান জানালেন। তার কথা, ‘আমি একজন মুসলিম, আলহামদুলিল্লাহ। গতকাল স্টেডিয়ামে একটি স্লোগান শোনা যাচ্ছিল— ‘যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম’।

ইয়ামাল নিজেকে ভুক্তভোগী মনে না করলেও তিনি বললেন, ‘আমি জানি এটি প্রতিপক্ষ দলকে লক্ষ্য করে বলা হয়েছিল এবং আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কিছু ছিল না, কিন্তু একজন মুসলিম হিসেবে এটি তবুও অসম্মানজনক এবং অসহনীয়।’

তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে এই আচরণের প্রতিবাদ করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে ফুটবলে এমন কর্মকাণ্ডের কোনো স্থান নেই। ইনস্টাগ্রামে এই স্ট্রাইকার বলেন, ‘আমি জানি সব সমর্থক একরকম নয়, কিন্তু যারা এই ধরনের স্লোগান দেয় তাদের বলছি: মাঠের ভেতর ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা আপনাদের অজ্ঞ ও বর্ণবাদী হিসেবেই তুলে ধরে। ফুটবল হলো উপভোগ করার এবং দলকে উৎসাহিত করার জন্য, কাউকে তার পরিচয় বা বিশ্বাসের জন্য অসম্মান করার জন্য নয়।’

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163394