সমতলে কফি চাষে সাফল্য বদলাচ্ছে পীরগঞ্জের কৃষিচিত্র
পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: ধান, ভুট্টা আর সবজির চিরচেনা মাঠে এবার দেখা মিলছে ভিন্ন এক ফসল-অ্যারাবিকা কফি। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার সমতল জনপদে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া কফি চাষ এখন সফলতার মুখ দেখছে। ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগের মাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন উপজেলার চান্দের বাজার এলাকার চানপুর গ্রামের কৃষক আলতাব হোসেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও সহযোগিতায় দুই বিঘা জমিতে অ্যারাবিকা কফির চাষ শুরু করেন আলতাব। বর্তমানে তার বাগানে রয়েছে প্রায় ২৭০টি কফি গাছ। এ বছর প্রথমবারের মতো গাছে ধরেছে টসটসে লাল কফি ফল। দৃষ্টিনন্দন এই ফল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও আগ্রহীরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৬৮টি বাগানে কফি চাষ হচ্ছে। এ বছর এখান থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি কফির গুঁড়া উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে। যার বাজারমূল্য প্রতি কেজি ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
চাঁনপুর গ্রামের বাসিন্দা আলফাজুর রহমান বলেন, আমরা আগে শুধু ধান আর ভুট্টার চাষ দেখেছি। এখন কফির মতো নতুন ফসল দেখে ভালো লাগছে। লাভজনক হলে আমরাও চাষে আগ্রহী হবো। আলতাব হোসেন জানান, শুরুতে কফি চাষ সম্পর্কে তার তেমন ধারণা ছিল না।
হোটেলে গিয়ে ‘কফি’ শব্দটি শুনলেও গাছ বা চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে জানতেন না। পরে কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণের জন্য ডাক পেয়ে আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি বলেন, শুরুতে কিছুটা ঝুঁকি ছিল। কিন্তু এখন ফলন দেখে আশাবাদী। প্রতিদিন অনেক মানুষ বাগান দেখতে আসেন। অনেকেই ভিডিও করেন। মানুষ আগ্রহ দেখাচ্ছেÑএটাই আমার বড় প্রাপ্তি।
এ বছর প্রথম ফলন ভালো হলেও এখনো পুরোপুরি বাজারজাত করা হয়নি। তবে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বাজারজাতকরণে সহায়তা ও কফি সংগ্রহ, শুকানো ও গুঁড়া করার জন্য উন্নতমানের যন্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুমন আহমেদ সরকার বলেন, পীরগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কফি চাষের জন্য উপযোগী। যেহেতু এটি নতুন ফসল, তাই মাঠপর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। সঠিক প্রযুক্তি ও পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে কফি এ অঞ্চলের সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হতে পারে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163382