পাবনার ঈশ্বরদীতে নারীসহ রাত কাটাতে চেয়ে পুলিশের হাতে ধরা ভুয়া জজ
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি : যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয় দিয়ে রাতে থানায় হাজির হন এক ব্যক্তি। ওসির কাছে চান বিশ্রামের জন্য রেস্ট হাউজের একটি রুম ও ট্রেনের টিকিটের সুবিধা। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না তার। ভুয়া পরিচয় দেওয়ায় ওসি’র বিচক্ষণতায় শেষমেশ তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঈশ্বরদীতে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে তাকে আটকের পর প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার করা হয়।
আজ বুধবার (১ এপ্রিল) সকালে ঈশ্বরদী থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. জামাল উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ পরিচয়ে থানায় এসেছিলেন বিশেষ সুবিধা আদায়ে। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি তিনি যশোরে ভূমি অফিসে তহশিলদার হিসেবে চাকরি করতেন। কিন্তু অনিয়মের দায়ে তিনি চাকরিচ্যুত, বর্তমানে তার কোনো চাকরি নেই বলে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম সৈয়দ জিয়া পীর মোহাম্মদ আলী। তিনি যশোরের কোতোয়ালি থানার বাগমারা গ্রামের মৃত আব্দুল আলীমের ছেলে। পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তি এক নারীসহ ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজেকে ঝিনাইদহের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পরিচয় দেন। এসময় তিনি পুলিশি সহযোগিতার রেস্ট হাউজে কক্ষ বরাদ্দ নিয়ে বিশ্রামের জন্য সহযোগিতা কামনা করেন।
একই সঙ্গে ট্রেনে যশোর যাওয়ার জন্য রেলের টিকিট সুবিধা প্রত্যাশা করেন। তবে কথাবার্তা ও আচরণে অসঙ্গতি লক্ষ্য করে সন্দেহ হলে তার পরিচয় যাচাই-বাছাই শুরু করে পুলিশ। যাচাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, তিনি কোনও বিচারক নন, বরং ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। এদিকে ঘটনার আকস্মিকতায় তার সঙ্গে থাকা নারী পরিস্থিতি বুঝতে পেরে দ্রুত সটকে পড়েন।
পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে তদন্তের পর মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই ব্যক্তিকে ভুয়া জজ পরিচয় দেওয়ার মামলা দায়েরের পর গ্রেফতার করে আজ বুধবার (১ এপ্রিল) আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163335