নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন

নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন

নরসিংদী জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শিবপুর উপজেলার কৃতি সন্তান পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের জেলা পরিষদ শাখা থেকে আজ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জেলা পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এর ধারা ৩ অনুযায়ী জেলা পরিষদ আইন, ২০০০-এ সংযোজিত ধারা ৮২ (ক) (১) মোতাবেক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তোফাজ্জল হোসেনকে নরসিংদী জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার এ নিয়োগে নরসিংদী জেলাজুড়ে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকেই এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তোফাজ্জল হোসেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। ১৯৬৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানির ডাকে হরতালে অংশ নিয়ে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব দেন তিনি।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি রণাঙ্গনের একজন সাহসী যোদ্ধা হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া ২০১৮ সালে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসন থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনীত চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। তিনি নরসিংদী জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং কৃষকদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।

পাশাপাশি মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নরসিংদী জেলা শাখার কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি শিবপুর উপজেলার চক্রধা ইউনিয়ন পরিষদের দুইবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং নরসিংদী মহকুমা গ্রাম সরকারের সাবেক নির্বাচিত প্রধান হিসেবেও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163192