ঠাকুরগাঁওয়ে পৈতৃক জমি দখল নিয়ে হামলায় আহত ৩

ঠাকুরগাঁওয়ে পৈতৃক জমি দখল নিয়ে হামলায় আহত ৩

ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানার কিসমত শুখানপুকুরী গ্রামে পৈতৃক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর, চুরি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারীসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট শেষে গভীর রাতে বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করেছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. আসরাফুল ইসলাম বাদি হয়ে গতকাল মঙ্গলবার ১১ জনের নাম উল্লে¬খ করে ভূল্লী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিসমত শুখানপুকুরী গ্রামের মৃত কফিল উদ্দীনের ছেলে আসরাফুল ইসলামের সাথে তার বিমাতা ভাই টুকু মিয়া, আব্দুল হামিদ ও আব্দুল করিমদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল।

আসরাফুলের দাবি, তার বাবা জীবদ্দশায় ৪৫ শতক জমি তার মা আয়েশা বেগমকে দলিলমূলে হস্তান্তর করেন, যেখানে তারা দীর্ঘদিন বসবাস করছেন। কিন্তু বিমাতা ভাইয়েরা ওই জমি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিলেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মার্চ সকালে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আসামিরা আসরাফুলের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন। বাধা দিতে গেলে আসরাফুলকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

এ সময় তার গোপনাঙ্গ চেপে ধরা ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয় বলেও এজাহারে উলে¬খ করা হয়েছে। হামলাকারীরা আসরাফুলের স্ত্রী ইসমত আরা ও বৃদ্ধা মা আয়েশা বেগমকেও পিটিয়ে জখম করে।
অভিযোগ উঠেছে, হামলার সময় ঘর থেকে ২ লাখ ২৯ হাজার টাকা ও ১৮ আনা সোনা লুট করা হয়। আসরাফুল ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গত ২৬ মার্চ গভীর রাতে আসামিরা পুনরায় তার বাড়িতে চড়াও হন। এবার তারা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে খড়ির ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে বোদা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

আসরাফুল ইসলাম বলেন, তারা আমাকে পঙ্গু করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে। আমার দোকান বিক্রির টাকা ও স্ত্রীর গয়না সব নিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ বিষয়ে ভূল্লী থানার বর্তমান দায়িত্বে থাকা (অফিসার ইনচার্জ) উপ-পরিদর্শক (এসআই) দীন মোহাম্মদ বলেন, কিসমত শুখানপুকুরী এলাকায় মারপিট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি।

প্রাথমিক তদন্তে হামলার ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী আসরাফুল ইসলাম বেশ কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163180