খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করেন সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক আফজাল

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বাধা সৃষ্টি করেন সাবেক ডিজিএফআই পরিচালক আফজাল

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির পেছনে ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মো. আফজাল নাছেরের ভূমিকা ছিল বলে অভিযোগ করেছেন সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।

সোমবার (৩০ মার্চ) আদালতে আফজাল নাছেরের রিমান্ড শুনানিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেফতার আফজাল নাছেরকে আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন। এসময় আসামির সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের মিরপুর মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম।


এর আগে ভোরে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের একটি বাসা থেকে আফজাল নাছেরকে গ্রেফতার করে।

শুনানিতে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, অতীতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল, সেখানে আসামির সম্পৃক্ততা ছিল।

আইনজীবী আরও অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে একাধিক মামলায় হয়রানি এবং তার চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির পেছনেও এই আসামির ভূমিকা ছিল। এমনকি ডিজিএফআই থেকে বহিষ্কারের পরও তিনি প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছেন। এসব কারণে তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আদালতে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপক্ষ।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন যে মামলায় তার মক্কেলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। শুধু নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি আসামি ক্ষমতাসীনদের সহযোগী হতেন, তবে ২০০৮ সালে তাকে কেন বহিষ্কার করা হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরের ফলপট্টিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেন ছাত্র-জনতা। এসময় আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের ৫০০ থেকে ৭০০ ব্যক্তি দেশীয় ও বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (৪০) গুলিতে গুরুতর আহত হন। প্রথমে তাকে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউট এবং পরে শ্যামলীর সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই সকালে তিনি মারা যান।

ঘটনার প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ৬ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করা হয়। তদন্তে উল্লেখ করা হয়, আফজাল নাছেরের পরোক্ষ নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়েছিল।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/163018