হামের লক্ষণ শুরু হলে করণীয় কী?
স্বাস্থ্যডেস্ক: শিশুর হালকা জ্বর, একটু কাশি কিংবা চোখ লাল হওয়া এসব আমরা অনেক সময় সাধারণ সর্দি-কাশি ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই ছোট ছোট লক্ষণই কখনো কখনো হতে পারে হামের প্রাথমিক সংকেত। আর দেরি করলে তা দ্রুত জটিল রূপ নিতে পারে।
হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা একবার ছড়াতে শুরু করলে খুব দ্রুত আশপাশের মানুষদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। তাই লক্ষণ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। শুধু রোগীর জন্য নয়, পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষার জন্যও। চলুন জেনে নেওয়া যাক, হামের লক্ষণ দেখা দিলে কী করবেন এবং কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবেন।
হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলো চিনে নিন
হাম সাধারণত ধাপে ধাপে প্রকাশ পায়। শুরুতে লক্ষণগুলো খুব সাধারণ মনে হলেও কিছু বিষয় খেয়াল করলেই আলাদা করা সম্ভব। যেমন- হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, শুকনো কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া, শরীর দুর্বল লাগা। এই লক্ষণগুলোর ২–৩ দিনের মধ্যে দেখা দিতে পারে ত্বকে লালচে র্যাশ, যা প্রথমে মুখে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ দেখা দিলে প্রথমেই যা করবেন
শিশুকে আলাদা রাখুন। হাম খুব সহজেই ছড়ায়। তাই শিশুর মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে তাকে অন্য শিশু বা বয়স্কদের থেকে কিছুটা আলাদা রাখার চেষ্টা করুন। এতে সংক্রমণ কম ছড়াবে।
বিশ্রাম নিশ্চিত করুন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি। শিশুকে দৌড়ঝাঁপ বা অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম থেকে দূরে রাখুন।
পর্যাপ্ত তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিন। হামের সময় শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই পানি, স্যুপ, ডাবের পানি, নরম ও সহজপাচ্য খাবার, ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলমূল খেতে দিন। এসব খাবার শিশুকে দ্রুত সুস্থ হতে সাহায্য করে।

জ্বর ও অস্বস্তি সামলানোর উপায়
কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন
হালকা কাপড় পরান, যাতে শরীর ঠান্ডা থাকে
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ ব্যবহার করুন
চোখ ও ত্বকের যত্ন
হামের সময় চোখ ও ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। তাই এ সময় চোখ পরিষ্কার পানি দিয়ে আলতো করে মুছুন, ত্বকে র্যাশ থাকলে খোঁচানো বা চুলকানো থেকে বিরত রাখুন, পরিষ্কার ও নরম কাপড় ব্যবহার করুন।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
জ্বর খুব বেশি (১০২ ডিগ্রি বা তার বেশি)
শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া
শিশুর খাওয়ায় অনীহা বা বারবার বমি
অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অচেতনভাব
র্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়া
পরিবারের অন্য সদস্যদের সুরক্ষা
একজন আক্রান্ত হলে অন্যদের ঝুঁকিও বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত হাত ধোয়া, আক্রান্ত শিশুর জিনিস আলাদা রাখা, ঘর পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখা, টিকা নেওয়া আছে কি না যাচাই করা -এসব বিষয় নিশ্চিত করুন।
কী করবেন না?
শিশুকে জোর করে খাওয়ানোর চেষ্টা করবেন না
নিজে নিজে ওষুধ শুরু করবেন না
র্যাশে কোনো অজানা ক্রিম ব্যবহার করবেন না
‘এটা কিছু না’ ভেবে অবহেলা করবেন না
ভয় নয়, সচেতনতাই মূল
হামের নাম শুনলেই অনেক অভিভাবক ভয় পেয়ে যান। কিন্তু মনে রাখতে হবে সময়মতো সঠিক যত্ন ও চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শিশুর শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করা, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তথ্যসূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162892