ভারতের সঙ্গে ড্র করল বাংলাদেশ
আগেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশের। গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্য ছিল রোনান সুলিভান-নাজমুল ফয়সালদের সামনে। সেই লক্ষ্যে ভালো শুরু পরও গোল হজম করে বসে বাংলাদেশ। রোনান সুলিভান-আব্দুল রিয়াদ ফাহিমের নৈপূণ্যে ম্যাচে সমতা ফেরালেও জয় পাওয়া হয়নি আর।
আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপের জাতীয় স্টেডিয়ামে ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে ভারতের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বাংলাদেশ।
দুই ম্যাচ শেষে ‘বি’ গ্রুপে এক জয় আর এক ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্স হয়ে সেমিফাইনালে গেল বাংলাদেশ। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্টে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে গেল ভারত। আগামী ১ এপ্রিল নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।
খেলার ১২তম মিনিটে কর্ণার থেকে বল পেয়েছিলেন ফাঁকায় দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ মুর্শেদ আলী। তবে তার হেডার বাইরে চলে যায় দূরের পোস্টের ওপর দিয়ে।
১৫তম মিনিটে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় ভারত। কর্ণারের বিনিময়ে সেটি রক্ষা করে বাংলাদেশ। সেই কর্ণার থেকেই লিড নেয় ভারত। ওমাং দদুম এর কর্ণার থেকে হেডারে বল জালে জড়িয়ে দেন বিশাল যাদব।
গোল হজম করে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে বারবার আটকে যাচ্ছিল প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে গিয়ে। উল্টো ৩৮ মিনিটে চোট নিয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়েন ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান। তার পরিবর্তে কোচ মার্ক কক্স মাঠে নামান মোহাম্মদ আব্দুলকে।
৪২ মিনিটে কর্ণার আদায় করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান সুযোগ এলেও সেটি কাজে লাগাতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। মিঠু চৌধুরির অগোছালো শট চলে যায় পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আবারও বাংলাদেশের বক্সে ভীতি ছড়ায় ভারত। প্রায় মধ্যমাঠ থেকে ফ্রি-কিকে বক্সে বল পাঠিয়েছিল ভারত। সেখান থেকে হেডও করেছিল। তবে বল চলে যায় গোলপোস্টের অনেকটা বাইরে দিয়ে।
এক মিনিট পরই প্রতিআক্রমণে যায় বাংলাদেশ। তবে আবারও বক্সের বাইরে গিয়ে আটকে যান মানিক মিয়া। শেষ পর্যন্ত কর্ণার আদায় করে নিলেও সেখান থেকেও ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দুই দলের ডাগআউট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রথমে গিয়ে রেফারি হলুদ কার্ড দেখান ভারতীয় গোলরক্ষক কোচকে। এরপর হলুদ কার্ড দেখান বাংলাদেশের প্রধান কোচ মার্ক কক্সকেও। ভারতীয় গোলরক্ষক কোচ কার্ডের প্রতিবাদ করলে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখান তাকে। বাংলাদেশের কোচকেও দেখানো হয় দ্বিতীয় হলুদ কার্ড।
যোগ করা সময়ের নবম মিনিটে ম্যাচে সমতা ফেরায় বাংলাদেশ। প্রথমে লং থ্রো থেকে কর্ণার আদায় করে নেয় বাংলাদেশ। প্রথমবার কর্ণার নেন রোনান সুলিভান। তার দুর্দান্ত কর্ণার থেকে দূরের পোস্ট থাকা আব্দুল প্লেসিং শটে বল জালে জড়িয়ে দেন।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে ডিফেন্ডারদের ভুলে প্রায় গোল হজম করে বসেছিল বাংলাদেশ। এ যাত্রায় দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ওমাং দুদুম। এগিয়ে এসে কর্ণারের বিনিময়ে সেটি বাঁচান মাহিন।
বাকি সময়ে আরও কয়েকবার দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ চালায়। গোলের সুযোগও তৈরি করে। তবে গোল আর পাওয়া হয়নি কোনো দলের। মাঠ ছাড়ে ড্র করেই।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162726