কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি: বিদ্যুৎমন্ত্রী
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, কোনো দেশের ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে মানুষের আত্মার দাবি, নিজের অস্তিত্ব, নিজের পতাকা নিজের মাটির জন্য। কাজেই এগুলো নিয়ে যারা সমালোচনা করে আমি মনে করি তারা বাংলাদেশে বিশ্বাস করে না এবং কোনোদিনই করবে না। তাদের মানতে হবে এদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে, লাখো মানুষ রক্ত দিয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ধর্মভিত্তিক দেশ করার পরে তখন শোষণ হয়েছিল, আমাদের ভাষার মিল ছিল না, আমাদের খাবার-দাবারের মিল ছিল না, লেখাপড়ার মিল ছিল না। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে সংসার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা দেয়নি, আমরা আমাদের অস্তিত্ব নিয়ে স্বাধীন হয়েছি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, দুঃখের বিষয় হলো আজকে যখন দেখি একটি অপশক্তি যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিল, তারা স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে সমালোচনা করে। আমি কষ্ট পাই, যে স্বাধীন দেশটা আনলাম, যে মানচিত্রটা আনলাম, যে পতাকাটা আনলাম সেই পতাকার তলে, সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে শিক্ষিত হয়েছেন তারা যখন আমাদের টেলিভিশনগুলোর টকশোতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন করে।
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরে আমাদের যা থাকার কথা ছিল তা থাকিনি। এ ১৭ বছরে একটি দল আমাদেরকে শাসন করেছে মুক্তিযুদ্ধের মালিকানা নিয়ে, তারা দাবি করেছে মুক্তিযুদ্ধ তাদের একমাত্র সম্পদ।
সেই যুদ্ধে শুধু আওয়ামী লীগ করেনি, আমি টুকু যুদ্ধ করেছি-আমি ভাসানী ন্যাপ করতাম। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ মানুষ যুদ্ধ করেছে। সেই জন্য এটাকে বলা হয় জনযুদ্ধ। কিন্তু আপনারা আওয়ামী লীগের মালিকানার শিকার হয়ে গিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান বীর উত্তম পেয়েছিলেন। যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, সেদিন থেকেই জিয়াউর রহমানকে বাংলার মানুষ চেনে। যাদেরকে নেতা বানিয়েছিলে, যাদেরকে ভোট দিয়েছিলেন যুদ্ধের সময় তাদেরকে পাওয়া যায়নি।
জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ২৭ মার্চ ট্রানজিস্টারের মাধ্যমে একটি আওয়াজ ভেসে আসলো, স্পষ্ট শুনতে পারছিলাম না। তবে এটা বুঝতে পারলাম মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন এবং যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ যখন হতাশ হয়ে গিয়েছিল, জিয়াউর রহমানের এ ঘোষণায় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। সেটাই ছিল আমাদের প্রত্যেকের সাহসের জায়গা।
যাদের ভোট দিয়েছিলাম তারা কলকাতায় চলে গিয়েছিল। আর যাকে নেতা বানিয়েছিলাম, এখনো তাকে যারা জাতির পিতা মনে করেন, তিনি কিন্তু যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি। তিনি পাকিস্তান চলে গেলেন। তাতে কিন্তু বাঙালি দমেনি। শহীদ জিয়াউর রহমানের ঘোষণায় বাঙালি সেনাবাহিনী যুদ্ধে নেমে পড়ে। ৯ মাস সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। আজকে সেই জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করে শেখ হাসিনা।
আজকে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যে ন্যারেশন তৈরি হচ্ছে, আমাদের দুর্বলতার জন্য। ভুলে গেছেন আলবদর, ভুলে গেছেন আলশামস, ভুলে গেছেন রাজাকার। যারা লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে, মা বোনদের সম্ভ্রম নষ্ট করেছে।
তাদের ইতিহাস ভুলে গেছেন। আপনারা এখন মুসলমান হওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা এখন আল্লাহর আইন কায়েম করতে চাই, আমরা তো আল্লাহর আইনের মধ্যেই আছি। নতুন করে কী আল্লাহর আইন কায়েম করতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল।