আজ মহান স্বাধীনতা দিবস
স্টাফ রিপোর্টার : আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। ১৯৭১ সালের এদিন পাকিস্তানি হানাদাররা ২৫ মার্চ রাতে ইতিহাসের যে নিষ্ঠুরতম বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, পরের দিন ২৬ মার্চ ঢাকাজুড়ে ছিল তারই ভয়াবহ প্রতিচ্ছবি। ১৯৭১ সালের এই দিনটি ছিল শুক্রবার।
সেদিন ঢাকা শহরের চারদিকে লাশ আর লাশ। ঢাকা যেন লাশের শহর। একদিকে রাতের নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞে স্বজন হারানোর শোক, অন্যদিকে পেছনে তাড়া করছিল মৃত্যুভয়। এমন পরিস্থিতিতে স্তব্ধ থমথমে ঢাকাসহ সারাদেশ। এরমধ্যেই কিছু মুক্তিকামী মানুষ হানাদারদের প্রতিরোধে নানাভাবে সংগঠিত হতে থাকে।
পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার পর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ বেয়ে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশের জনগণ পেয়েছিল পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি দেশ। এরপর শুরু হয় বাঙালিকে নতুন করে শোষণ ও পরাধীনতার শৃঙ্খলে বেঁধে রাখার পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ষড়যন্ত্র। তবে পাকিস্তানি হানাদারদের শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় বাঙালি জাতি।
মার্চের ২৬ তারিখ প্রথম প্রহরেই ঢাকাসহ সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়। একইদিন সন্ধ্যায় কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন শহীদ প্রেসিডেন্ট এবং তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। এই বার্তাটি-ই তখন বিপন্ন জনতার সামনে একমাত্র দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করে। এই স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার হওয়ার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর ও নির্বিচারে গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ ও পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতি তাদের সর্বশক্তি নিয়ে ইস্পাত কঠিন প্রত্যয় নিয়ে সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
সারাদেশে শুরু হয় প্রতিরোধ যুদ্ধ। শত্রুসেনাদের বিতাড়িত করতে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়াই করার ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। ভয়াল কালরাতের ধ্বংসস্তূপ আর লাশের ভেতরে দিয়ে ওঠে রক্ত রাঙানো নতুন সূর্য।
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আজ সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। এদিকে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধ। এছাড়াও জেলা ও উপজেলার স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162396