আগামীর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

আগামীর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে

বর্তমান সরকার শপথ নেয়ার পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে যে আশাবাদ ব্যক্ত করে লিখেছিলাম, সত্যি সত্যি তিনি সেভাবেই শুরু করেছেন। আমি লিখেছিলাম, তিনি দীর্ঘ সতেরো বছর বিশ্বের অন্যতম একটি আধুনিক ও উন্নত দেশে বসবাস করেছেন, সেখানকার রাষ্ট্রীয় সেবা ও সরকারি দায়িত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন। আর তা যে তিনি আত্মস্থ করেছেন তার প্রমাণ ইতিমধ্যে দেশবাসী দেখতে পাচ্ছেন। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত বৈষম্যহীন করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত পূর্বক সুশীল সমাজ কায়েমের মাধ্যমে একটি উন্নত দেশ গড়ার প্রচেষ্টা আমরা প্রত্যক্ষ করতে শুরু করেছি। একইসাথে তার আচার, অ্যাটিচুড ও ব্যক্তিত্বে রয়েছে বিশালতা ও প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারের জন্য পরিপূর্ণ পারফেকশন। কিন্তু তাঁর চলার পথ বড়ই কঠিন, তাঁকে ব্যর্থ করে দিতে অনেকেই তৎপর থাকবে। তাই দেশের শান্তিকামী ছাত্র সমাজ ও সর্বসাধারণকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকতে হবে। 

ড. ইউনূসের সময়কালে রাষ্ট্র মূলত চলেছে সেন্টিমেন্টের উপর! আইন বিধির থেকেও সবাই সেন্টিমেন্টালকে ভয় করেছে। আমার তো মনে হয়, আওয়ামীলীগের সময় ছাত্রলীগকে যতটা না ভয় করত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ, তারচে কয়েকগুণ বেশি ভয়ে ছিল মবতন্ত্রীদের। এমনকি যে আমি ২০২০ সাল থেকে বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে লিখে আসছি এবং জুলাই আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক লিখেছি বৈষম্যের বিরুদ্ধে ও আন্দোলনের পক্ষে, আবু সাইদ, ফারহান, মুগ্ধ, রিয়াকে নিয়ে লিখেছি, সেই আমাকেও বগুড়ার কয়েকজন বৈষম্য বিরোধী নামের ছেলেরা প্রচ্ছন্ন হুমকিও দিয়েছিল, ওদের কোন এক কাজে একরুম থেকে আরেক রুমে কেন যেতে হয়েছিল তাই!
এরকম প্রায় সারাদেশই একটি আতংকের মধ্যে ছিল দেড় বছর!  পৃথিবীর সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ব্যর্থ শাসক ড. ইউনূস দেশের কোন ভালো কিছু পরিবর্তন করতে না পারলেও একটি শ্রেণিকে এমনভাবে উস্কে দিয়েছে যারা সত্যিই একটি স্থিতিশীল ও বৈরিতাবিহীন রাষ্ট্রের জন্য হুমকি। তাদের কথা, আচরণ ও অ্যাটিচুডে আছে শুধু উগ্রতা আর বৈরিতা। তাই সামনে দেশকে স্থিতিশীল রেখে উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে হলে অত্যন্ত কঠোর হতে হবে সরকারকে। দেশের স্বাধীনতা, মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বের প্রতি যাদের পরিপূর্ণ আনুগত্য ও শ্রদ্ধাশীলতা নেই তাদের প্রতি সতর্ক থাকতে হবে।  কোনভাবেই ফালতু হম্বিতম্বিকে প্রশ্রয় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। মনে রাখা প্রয়োজন, পৃথিবীতে যে কোন দেশে, যে কোন সময় বৈষম্য কিংবা লুটপাটের বিরুদ্ধে আন্দোলন হতেই থাকবে, মানুষ রাস্তায় বের হবে। যেমন ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন হয়েছে।  কিন্তু পৃথিবীতে স্বাধীনতা একবারই আসে, মুক্তিযুদ্ধ একবারই হয়। পৃথিবীর কোন আন্দোলনই মুক্তিযুদ্ধকে ছাপিয়ে যেতে পারেনা বা তার সাথে কোন আন্দোলনের তুলনা হয়না। কিন্তু আফসোসের বিষয়, ড. ইউনূসের মদদে কিছু মানুষ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করার সাহস পেয়েছে! আর তাই স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে আপামর জনসাধারণের আন্দোলনকে কিছু মানুষ তাদের স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার বানানোর সুযোগ পেয়েছে, যেমন মুক্তিযুদ্ধকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ যেমন আওয়ামী লীগের সম্পত্তি নয়, তেমনি জুলাই আন্দোলনও কতিপয় মানুষের সম্পত্তি হতে পারেনা। যেমন নব্বইয়ের আন্দোলন ছিল সবার। যাই হোক, দেশের সংবিধান বা আইন কানুন কোন সমস্যাই নয়, সমস্যা মাত্র একটি। যেটি আমি ২০২৪ এর পরিবর্তনের পরেও লিখেছিলাম। আর সেটি হচ্ছে, দুর্নীতি-লুটপাট। যদি দুর্নীতি-লুটপাট বন্ধ করা যায় তাহলে কোন কিছুরই আর পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। আমি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্টেই ৫৯টি সংস্কার প্রস্তাব লিখেছিলাম, যেগুলি তিনজন সংস্কার কমিশনের প্রধানের হাতেও দিয়েছিলাম, যেগুলো মূলত কোন কাঠামো নয়, সরকারি উদ্যোগের প্রস্তাব। যার মধ্যে অন্যতম ছিল ঘুষ, দুর্নীতি, লুটপাটসহ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনিয়ম, অপরাধ ও দুর্নীতি প্রতিরোধ সেল গঠন। যে সেল অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে নির্ধারিত কমিটি কর্তৃক যাচাই পূর্বক ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। যদি কখনো সুযোগ পাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা বা কথা হওয়ার তাহলে সেই প্রস্তাবটি তাঁর সামনে তুলে ধরব ইনশাআল্লাহ। যাই হোক, বর্তমান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেভাবে শুরু করেছেন, যদি তাঁকে আমরা সহযোগিতা করতে পারি তাহলে আগামী ৫ বছরে দেশে অভাবনীয় শুভ পরিবর্তন দেখতে পাব। কিন্তু জুলাই আন্দোলনকে স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্র করার কোন সুযোগ কেউ যাতে না পায় তারজন্য দেশের ছাত্র-জনতাসহ সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।

আলতু-ফালতু দাবি নিয়ে যেই রাস্তায় নামুক না কেন, তাদের কঠোর থেকে কঠোরতরভাবে দমন করতে হবে। অনেক হয়েছে আন্দোলন সংগ্রাম, স্বার্থ সিদ্ধি। আর কোন ঝামেলা নয়, আগামীর লক্ষ্য একটি শান্তিপূর্ণ, সহাবস্থানের সুশীল সমাজ ও উন্নত আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ। একই সাথে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানসিকতার সাথে একাত্ম হতে হবে। তবে সরকার দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িয়ে পড়লে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার থাকতে হবে।

লেখক:

শাহজাহান আলম (রিপন)

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা 
বগুড়া পৌরসভা।

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162333