যমুনার পানি কমলেও বগুড়া সারিয়াকান্দির পর্যটন কেন্দ্রে উপচেপড়া ভিড়
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি : কয়েক মাস ধরেই বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্য সংকট বিরাজমান। যমুনাতে পানি না থাকলেও ঈদ উপলক্ষ্যে উপজেলার সবকটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটকদের উপচেপড়া ভিড় হয়েছে। পর্যটকদের চাপে উপজেলার প্রধান সড়কে থেমে থেমে যানজটের সৃষ্টি হয়। পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন রকমারি দোকানিদের জমজমাট বেচাকেনা হয়েছে।
গত কয়েক মাস ধরেই বগুড়া সারিয়াকান্দির যমুনা নদীতে নাব্য সংকট বিরাজমান। এতে এক সময়ের নৌ চলাচল পথে মানুষ হেঁটে বা মোটরসাইকেলে চলাচল করছেন। সারিয়াকান্দিকে যমুনা নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন সময়ে বেশকিছু স্পার এবং গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। এগুলো দৃষ্টিনন্দন করে নির্মাণ করায় কালক্রমে এসব স্থাপনাগুলো পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এগুলো হলো-কালিতলা গ্রোয়েন বাঁধ, দীঘলকান্দি প্রেম যমুনার ঘাট, মথুরাপাড়া স্পার, হাসনাপাড়া ও নিজবলাইল স্পার এবং ইছামারা কড়িতলা চত্বর। এসব স্থাপনার সামনে যমুনা নদী প্রবহমান থাকায় এসব পর্যটন কেন্দ্রের গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বছরে প্রায় লাখো পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়। তবে এবছর এসব পর্যটন কেন্দ্রের সামনে যমুনা নদী প্রবহমান নয়।
বরং ড্রেজিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখে শুধুমাত্র কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ সংলগ্ন সারিয়াকান্দি এবং মাদারগঞ্জ নৌরুট চালু রাখা হয়েছে। যমুনায় পানি না থাকলেও ঈদ উপলক্ষ্যে এসব পর্যটন কেন্দ্রগুলো উৎসবমুখর ছিল। ঈদের দিন থেকেই কয়েক দিন বিকেলে উপজেলার কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধে হাজার হাজার পর্যটকদের আগমন হয়। পর্যটকদের চাপে গ্রোয়েনবাঁধের মূল বেদিতে তিল ধারনের মতো কোনও জায়গা পাওয়া যায়নি। এবছর উপজেলার প্রধান সড়কে ভারি যানবাহন চলাচল করতে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় যানজট কিছুটা কম হয়েছে।
এদিকে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে পর্যটকরা নৌকায় ভ্রমণ করেছেন সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত। পর্যটন কেন্দ্র ঘিরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ধরনের মুখরোচক খাবারের দোকান, হোটেল ব্যবসায়ী, নৌকার মাঝি এবং রকমারি খেলনার দোকানীসহ রাইডের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর তাদের সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে। ঈদ উপলক্ষ্যে এ উপজেলার ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটেছে।
সারিয়াকান্দি পৌর বিএনপি’র সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সনি বলেন, যমুনায় পানি না থাকলেও বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর সর্বাধিক সংখ্যক পর্যটক সারিয়াকান্দিতে এসেছেন। পর্যটকদের চাপ কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধেই সবচেয়ে বেশি হয়েছে। পানি না থাকায় পর্যটকরা বেশি আনন্দ উপভোগ করতে পারেনি। তবে সরকারি পদক্ষেপে যদি এ পর্যটন কেন্দ্রে শোভাবর্ধক বৃক্ষ রোপণ করা যায়, বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ দিয়ে শোভিত করা যায় এবং বসার জন্য টেবিলসহ ছাতা নির্মাণ ও বেশকিছু পিকনিক স্পট করতে পারলে সারিয়াকান্দি হবে দেশের মধ্যে একটি অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।
সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সুমাইয়া ফেরদৌস বলেন, ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে সারিয়াকান্দিতে আগত পর্যটকদের সুবিধার জন্য বেশকিছু প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। এগুলোর মধ্যে ছিল-কালিতলা গ্রোয়েনবাঁধ এবং প্রেম যমুনার ঘাটে প্রয়োজনীয় সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, বালুবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের ভারি যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পর্যটকদের পর্যটন কেন্দ্রে অবস্থান নিয়ন্ত্রণ করা এবং পর্যটকদের জন্য নির্দিষ্ট হেল্প ডেস্ক চালু করা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162274