ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে রংপুরজুড়ে
রংপুর প্রতিনিধি: টানা ছুটিকে ঘিরে রংপুর নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে মানুষের ঢল। ঈদের ৪র্থ দিনও ভিড় দেখা গেছে রংপুর চিড়িয়াখানায়। যেখানে পরিবার-পরিজন, বিশেষ করে শিশুদের নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই চিড়িয়াখানার প্রধান ফটকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে দেখা যায় আগতদের।
আবহাওয়া ছিল আরামদায়ক। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস যেন ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। শুধু শিশুরাই নয়, তরুণ থেকে শুরু করে বয়স্করাও মেতে উঠেছেন উৎসবের আমেজে। জেলার অন্যান্য দর্শনীয় স্থান, পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ছিল একই চিত্র।
চিড়িয়াখানায় বাঘ, সিংহ, বানর, হরিণ, কুমিরসহ বিভিন্ন প্রাণীর খাঁচার সামনে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে বানর আর বাঘ-সিংহের খাঁচার সামনে উপস্থিতি শিশুদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে। এছাড়াও কুমির, জলহস্তি, ঘোড়া, ভাল্লুক, চিতাবাঘ, অজগর, কচ্ছপসহ নানা প্রাণী দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। পাখির মধ্যে ময়না, টিয়া, ময়ূর, কাকাতুয়া ও বকের উপস্থিতিও ছিল নজরকাড়া।
এছাড়া শিশুপার্কেও ছিল ভিড়। সেখানকার রাইডে চড়তে টিকিট কাউন্টারের সামনে লম্বা লাইন দেখা যায়। অনেকেই সেখানে ঘুরে বেড়ানো, ছবি তোলা আর আড্ডায় সময় কাটিয়েছেন। ভূতের গুহা ও কৃত্রিম হ্রদ দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে।
পঞ্চগড়ের ভাউলাগঞ্জ থেকে পরিবার নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল জানান, বাচ্চাদের আনন্দের জন্যই এতদূর আসা। তারা বাঘ, বানর আর জলহস্তী দেখে খুব খুশি হয়েছে। আবহাওয়া ভালো থাকায় বের হয়েছি।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, এবারের ঈদে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ ছিল বাঘ দম্পতি রোমিও-জুলিয়েটের শাবক রাজা ও রানি। ছয় মাস বয়সী এই শাবকগুলোকে দেখতে শিশুদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বক্ষণিক পুলিশ মোতায়েনসহ সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে পুরো এলাকা।
রংপুর চিড়িয়াখানা ছাড়াও তাজহাট জমিদার বাড়ি, রূপকথা থিম পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থানগুলোতেও পরিবার-বন্ধুদের সাথে সময় কাটাতে দেখা গেছে অনেককে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162255