ফুয়েল সংকটে থমকে বাস চলাচল, ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরতে দুর্ভোগে উত্তরবঙ্গের ঢাবি শিক্ষার্থীরা
ঢাবি প্রতিনিধি: পর্যাপ্ত ফুয়েলের অভাবে উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বিভিন্ন রুটে তীব্র বাস সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে রাজধানীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া বাস চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। এতে করে ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাসে ফিরতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শত শত শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে গাইবান্ধা জেলার কয়েকটি ফুয়েল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ পাম্পই বন্ধ রয়েছে। পাম্প সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা জানান, ঈদের পর থেকেই ফুয়েল সরবরাহ কমে যাওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা। ফলে গণপরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহন ফুয়েল সংকটে পড়েছে।
এদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে গিয়েও মিলছে না টিকিট। সংশ্লিষ্টরা জানান, পর্যাপ্ত ফুয়েল না থাকায় বেশিরভাগ বাসই চলাচল বন্ধ রেখেছে। হাতে গোনা যে কয়েকটি বাস চলছে, সেগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়, ফলে টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গাইবান্ধা জেলার বাসিন্দা শিমুল হুদা বলেন, “আগামী ৩০ তারিখ আমার পরীক্ষা। কিন্তু কোথাও টিকিট পাচ্ছি না। অনেক চেষ্টা করে একটি টিকিট পেয়েছি, তাও নিশ্চিত নই বাসটি সময়মতো ছাড়বে কিনা।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত রংপুর জেলার শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব বলেন ছুটি শেষ হতে আর দেরী নেই। বার বার টিকিট কাউন্টারে গিয়েও টিকিট পাচ্ছি না।কাউন্টার থেকে বলছে বাস আসবে কি না অনিশ্চিত। এইদিকে ট্রেনে এখন থেকেই উপচে পড়া ভীর।এই গরমে ট্রেনে দাঁড়িয়ে থেকে যাওয়ার ও অবস্থা নেই আর শিডিউল বিপর্যয় তো আছেই।সব মিলিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি ঠিক সময়ে ক্লাসে বসতে পারবো কি না।
শুধু গাইবান্ধাই নয়, একই চিত্র দেখা গেছে রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীসহ বিভাগের অন্যান্য জেলাগুলোতেও। এসব অঞ্চল থেকে ঢাকাগামী পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ও ক্লাসে উপস্থিত হওয়া নিয়ে তারা অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেকেই বিকল্প উপায়ে ঢাকায় ফেরার চেষ্টা করছেন, তবে তাতেও বাড়তি খরচ ও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দ্রুত ফুয়েল সরবরাহ স্বাভাবিক করে পরিবহন ব্যবস্থা সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা। না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/162200