ইরানের খারগ দ্বীপ দখলের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানিকেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল বা অবরোধের সম্ভাবনা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে বাধ্য করতেই এই পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে। কারণ প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে।
জানা গেছে, ইরানের অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই এই খারগ দ্বীপের মাধ্যমে রপ্তানির জন্য প্রক্রিয়াজাত করা হয়। দেশটির উপকূল থেকে মাত্র ১৫ মাইল দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি দখল করা হলে ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব বলে মনে করছে ওয়াশিংটন।তবে এই ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল না করা পর্যন্ত এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।
অ্যাক্সিওসের এক সূত্র জানায়, ইরানকে আরও দুর্বল করতে প্রায় এক মাস ধরে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর দ্বীপটি দখল করে কূটনৈতিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে চাইতে পারে।
এদিকে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে। ইতোমধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর তিনটি ইউনিট ওই অঞ্চলের দিকে রওনা হয়েছে। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আরও সৈন্য পাঠানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা আমাদের অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে খারগ দ্বীপ দখল করা হবে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”মার্কিন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান টম কটন স্থল অভিযানের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি, তবে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেননি।
অন্যদিকে, সামরিক বিশ্লেষক ও অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি সতর্ক করে বলেছেন, খারগ দ্বীপ দখল করলেও ইরান অন্য পথ দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে। ফলে এই অভিযান মার্কিন সেনাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, স্থল অভিযানের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি দিয়ে চলাচল নিশ্চিত করার পথ বেছে নিতে পারে।
এদিকে, গত শুক্রবার খারগ দ্বীপে ইরানের কয়েক ডজন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি ছিল ইরানকে সতর্ক করার পাশাপাশি দ্বীপে তাদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি বলেন, “আমরা চাইলে যেকোনো সময় এই দ্বীপটি দখল করতে পারি।” তবে স্থল সেনা পাঠানো নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে সে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ২,৫০০ সদস্যের একটি মেরিন বাহিনী ওই অঞ্চলে পৌঁছাবে। একইসংখ্যক আরও দুটি ইউনিট ইতোমধ্যে রওনা হয়েছে। যদিও এসব বাহিনী শুধু খারগ দ্বীপ নয়, প্রয়োজনে ওই অঞ্চলের মার্কিন দূতাবাসগুলো থেকে কর্মী সরিয়ে নেওয়ার কাজেও ব্যবহার হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তথ্যসূত্র : অ্যাক্সিওস