পাবনার বেড়ার চরাঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা
আবুল কালাম আজাদ, বেড়া (পাবনা): পাবনার বেড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার দিক থেকে আজও অনেক পিছিয়ে। যমুনা ও হুরাসাগর নদের বুকে জেগে ওঠা এসব চরে হাজারো মানুষ বসবাস করছেন দীর্ঘদিন ধরে। ধান, ভুট্টা, বাদাম, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয় এসব চরে। কিন্তু ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে এখনও বঞ্চিত এখানকার সাধারণ মানুষজন।
চরাঞ্চলে দুর্ভোগের মূল কারণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে পায়ে হেঁটে, ঘোড়ার গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে চলাচল করা যায়। তবে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। চারদিক পানিতে ডুবে যাওয়ায় নৌকাই চলাচলের একমাত্র ভরসা। মাঝেমধ্যে ঝড়-বৃষ্টি বা নদীর স্রোতের কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকলে মানুষ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
চরগুলোর অধিকাংশ এলাকায় একটি বা দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোনো মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ নেই। প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তাদের যেতে হয় উপজেলা সদরের স্কুল-কলেজগুলোতে। ফলে মেয়েদের ক্ষেত্রে পরিবারগুলো নিরাপত্তা ও যাতায়াত ঝুঁকির কথা ভেবে বেশিরভাগ সময় পড়াশোনা বন্ধ করে দেয়। এতে বাল্যবিয়ের শিকার হন তারা। আর ছেলেদের কেউ কেউ কৃষিকাজে নেমে পড়ে।
চরনাগদাহর বাসিন্দা ইউছুব মোল্লা বলেন, এলাকায় একটি কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও তা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকে। রাতে কেউ অসুস্থ হলে ঘোড়ার গাড়ি বা ট্রলারে করে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পাড়ি দিয়ে যেতে হয় বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় রোগী হাসপাতালে নেওয়ার আগে পথেই মারা যায়। বিশেষ করে প্রসূতি মায়েদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি। রাতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়, নৌকা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ না থাকায় চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ প্রতিটি বড় চরে একটি করে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তারা।
কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম (ডন) বলেন, চরাঞ্চলের উন্নয়ন শুধু কৃষিতে নয়, মানুষের জীবনমান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগও উন্নত করতে হবে। ভাসমান স্কুল ও ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক চালু করলে সুবিধা হবে, ইন্টারনেট থাকলে কৃষক আরও লাভবান হবেন।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/161389