পাকিস্তানকে ২৯১ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে শুরুটা বেশ আত্মবিশ্বাসীভাবেই করেছিল বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান ধীরে-সুস্থে দলকে এগিয়ে নিয়েছেন। তানজিদের শতরানে ভর করে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৫ উইকেটে ২৯০ রানে।
শুরুর দিকে বেশ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করছেন তানজিদ। আগের ম্যাচে দ্রুত আউট হলেও এবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলছেন তিনি। অন্যদিকে প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া সাইফ তুলনামূলক সতর্ক হয়ে ইনিংস গড়ার চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি দলকে বড় ইনিংসের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
অবশ্য সাইফের বিপক্ষে পাকিস্তান এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করলেও আম্পায়ার সেটি নাকচ করে দেন। পরে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি রিভিউ নিলেও তাতে লাভ হয়নি। ফলে প্রথম রিভিউ হারাতে হয় পাকিস্তানকে।
শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলছিলেন তানজিদ, অন্য প্রান্তে কিছুটা ধীরগতিতে ইনিংস সাজাচ্ছিলেন সাইফ। দুজনের সমন্বয়ে ১০৬ বলে আসে উদ্বোধনী জুটির শতরান, যা বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দেয়।
তবে অনেকক্ষণ ক্রিজে থাকলেও পুরোপুরি স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না সাইফ। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির নতুন স্পেলের প্রথম বলেই বিপদে পড়েন তিনি। স্টাম্প ছেড়ে শট খেলতে চাইলেও ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক সংযোগ করতে পারেননি। ফলে বল সোজা আঘাত হানে স্টাম্পে এবং বোল্ড হয়ে ফিরতে হয় তাকে।
আউট হওয়ার আগে ৫৫ বলে তিনটি চারের সাহায্যে ৩৬ রান করেন সাইফ।
ক্রিজে সেট ব্যাটসম্যান তানজিদের সঙ্গে নতুন সঙ্গী ছিলেন নাজমুল শান্ত। তানজিদের সঙ্গে বুঝেশুনে খেলেছেন তিনিও। দুজন মিলে রান নিয়ে গেছেন ১৫০ এর ঘরে। তবে হারিস রউফের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন শান্ত। তাকে ফিরতে হয় ৩৪ বলে ২৭ রানে।
শান্তর পর তানজিদ-লিটন জুটি বেঁধেছিলেন। তানজিদকে যোগ্য সঙ্গ দিচ্ছিলেন লিটন। এরইমধ্যে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম শতরান স্পর্শ করেন তানজিদ। অবশ্য সেঞ্চুরির আগেই নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসকে পেছনে ফেলেছেন তিনি। আগে তার সেরা ছিল ৮৪ রান, আর এবার সেই সীমা ছাড়িয়ে প্রথম শতকের দেখা পেলেন এই বাঁ হাতি ওপেনিং ব্যাটার। ৯৮ বলে তানজিদ পান কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরির দেখা।
সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করার পর তিনি আউট হন। আবরার আহমেদের শর্ট বল নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে কাভারে ক্যাচ দেন তিনি। যেখানে শাহিন শাহ আফ্রিদি বল তালুবন্দী করেন। তানজিদ খেলেন ১০৭ বলে ১০৭ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস, যেখানে ছিল সাতটি ছক্কা ও ছয়টি চার।
তানজিদের বিদায়ের পর শেষদিকে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেননি লিটন ও হৃদয়। ধীর-স্থির ব্যাটিংয়ে তারা দলের রান এগিয়ে নিয়েছেন। তারা ৪৭ বলে পূর্ণ করেন পঞ্চাশ রানের জুটি।
শেষদিকে লিটন মারমুখী ব্যাট চালানোর চেষ্টা করেন। হারিসের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই উইকেটকিপার। তার ব্যাট থেকে আসে ৫১ বলে ৪১ রান।
তার বিদায়ের পর গোল্ডেন ডাকে বিদায় হন রিশাদ হোসেন। তবে আফিফকে নিয়ে রানের গতি সচল রাখেন হৃদয়। তিনি দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৩ বলে ৪৭ রান করেন। তার সাথে ৫ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন আফিফ।