ধুনটে মাদক নির্মূলে বাধা পুলিশ সোর্স, অধরা মূল ব্যবসায়ীরা
ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি : সামনে ঈদ, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও বেড়েছে মাদকের চাহিদা। নিয়মিত সেবনকারীদের সাথে এসময় যুক্ত হয় মৌসুমি ক্রেতা। ফলে বাড়তি লাভের আশায় তৎপর হয়ে উঠছে মাদক ব্যবসায়ীরা। ধর্মীয় এই উৎসবকে কাজে লাগাতে বাড়ছে মাদকের মজুত। এলাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তৎপর রয়েছে পুলিশ। কিন্তু মাদকবিরোধী অভিযান বা মাদক নির্মূলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুলিশের কথিত সোর্স হিসেবে পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা। পুলিশের সোর্স পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে অবাধে মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে। বগুড়ার ধুনট উপজেলায় পাইকারি মাদক ব্যবসায়ী, ক্রেতা-বিক্রেতা ও সচেতন নাগরিকদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ধুনট শহর ছাড়াও প্রত্যন্ত গ্রামে গ্রামে জমজমাট মাদক ব্যবসা শুরু হয়েছে। উপজেলার শতাধিক স্পটে চলছে রমরমা মাদক বাণিজ্য। বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। অনেক মাদক ব্যবসায়ী ঈদকে সামনে রেখে এখন থেকেই মাদকের মজুত গড়ে তুলছে। ইয়াবা, ফেনসিডিল, হেরোইন, গাঁজা ও বাংলা মদসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য অবাধে এলাকায় প্রবেশ করছে। শহরের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রত্যন্ত গ্রামেও মাদক ব্যবসায়ী এবং মাদকসেবীদের বাড়াবাড়িতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে গ্রামের সুশীল সমাজ।
বিভিন্ন এলাকার সোর্সরা সরাসরি মাদক ব্যবসায় জড়িত। এরা মাদক ব্যবসা করলেও অজ্ঞাত কারণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করে না। এমন কিছু সোর্সের নাম পাওয়া গেছে যারা অনেক আগে থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে। ওইসব সোর্স মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। যারা সুবিধা দিতে পারে না, তাদের পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেয়। সোর্সরা অধিকাংশ সময় পুলিশের সাথে চলাফেরা করে। এ কারণে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না। অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে সাধারণত পুলিশের সোর্স প্রয়োজন হয়। এজন্য পুলিশের নিয়মিত বাজেটে সোর্স মানির বরাদ্দ রয়েছে। এই সোর্স মানি কখনও সোর্সরা পায় না। তাই পুলিশের নাম ভাঙিয়ে মাদক ব্যবসা করেই সোর্সরা পাওনা পুষিয়ে নেয়।
এদিকে, পুলিশের চাপের মুখে মাদক বিক্রেতারা এবার ভোল পাল্টে ভ্রাম্যমাণ হয়েছে। এলাকা ঘুরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তারা সেবীদের হাতে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। মোবাইল ফোনে সঙ্কেতের মাধ্যমে মাদক কেনাবেচাকে নাম দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল পদ্ধতি। এমন বিক্রেতার সংখ্যাও কম নয়। এসব বিক্রেতা মাদক পাচ্ছে কথিত সোর্সদের কাছে থেকে।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা যতই কৌশলী হোক পুলিশও ভিন্ন কৌশল নেবে। মাদক ব্যবসা যেই করুক না কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ আসামি আটক করতে সোর্স ব্যবহার করে ঠিকই। কিন্তু সেই সোর্স কোন অপরাধের সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/161223