ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা বেঁচে আছেন, কিন্তু 'গুরুতর আহত: ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের সুপ্রিম লিডার ইস্যুতে ফের নতুন এক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা কেবল বেঁচে আছেন তা নয়, বরং তিনি ‘গুরুতর আহত’ অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি হামলার প্রথমদিনই আহত হয়েছিলেন। আমার ধারণা কোনোভাবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরানের নতুন নেতার লিখিত বার্তা প্রকাশের পর এটিই এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম প্রতিক্রিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালেও ট্রাম্প একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “আমরা সামরিক, অর্থনৈতিকসহ সব দিক দিয়ে ইরানের সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেব।”
তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনের সমালোচনা করে বলেন, ইরানের নৌবাহিনী শেষ। বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সবকিছু ধ্বংস করা হচ্ছে। এমনকি তাদের নেতাদেরও আর দেখা যাচ্ছে না। আমাদের কাছে অতুলনীয় সামরিক শক্তি, সীমাহীন গোলাবারুদ এবং পর্যাপ্ত সময় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তারা (ইরান) গত ৪৭ বছর ধরে সারা বিশ্বে নিরীহ মানুষ হত্যা করে আসছে। আর এখন আমি, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে, তাদের হত্যা করছি। এটি করতে পারা আমার জন্য বড় সম্মানের।
অপরদিকে ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে চালানো হামলায় ইরান বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং এতে ইসরায়েল আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। এমনকি ‘ইরান আর আগের সেই ইরান নেই’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
এর আগে সাইপ্রাসে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা সালারিয়ান ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, তিনি শুনেছেন যে মোজতবা খামেনির হাত, পা ও বাহুতে আঘাত লেগেছে এবং আহত অবস্থায় তিনি হাসপাতালে থাকতে পারেন। এমন অবস্থায় কোনো বক্তব্য দেওয়া তার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের নয়।
প্রসঙ্গত, গত সোমবার মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তবে এই ঘোষণা এমন সময়ে আসে, যখন তার সুস্থতা নিয়ে নানা খবর গণমাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে।