বগুড়ায় সাধ্যের মধ্যে ঈদ আনন্দ হকার্স মার্কেটে নিম্ন আয়ের মানুষের উপচে পড়া ভিড়
হাফিজা বিনা : পবিত্র ঈদুল ফিতর যতই ঘনিয়ে আসছে বগুড়ার ঈদ বাজারে কেনাকাটার ধুম যেন ততটাই বেড়েছে। শহরের অভিজাত শপিং মলগুলোতে পোশাকের ও দামের চাকচিক্য থাকলেও, সাধারণ ও স্বল্প আয়ের মানুষের মূল গন্তব্য এখন বগুড়া রেলওয়ে আদর্শ হকার্স মার্কেট এবং সংলগ্ন “হঠাৎ মার্কেট”। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তিল ধারণের জায়গা থাকছে না এই বাজারগুলোতে।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মার্কেটের ভিতরে দেখা যায়, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো তাদের বাজেটের মধ্যে কেনাকাটা সারতে এই মার্কেটকেই বেছে নিচ্ছেন। শহরের রানার প্লাজা বা পুলিশ প্লাজার মতো বড় বড় মলে পোশাকের আকাশচুম্বী দাম দেখে সাধারণ ক্রেতারা হকার্স মার্কেটে ভিড় করছেন।
যে বেবি ফ্রক বা থ্রি-পিস অভিজাত মলে আড়াইশো থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে, প্রায় একই মানের পোশাক এই হকার্স মার্কেটে ৬০০ থেকে ১৫শ’ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের ফ্রক, গেঞ্জি সেট এবং তরুণদের জিন্স প্যান্ট ও পাঞ্জাবির চাহিদা এখানে সবচেয়ে বেশি।
ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটাতে তারা হকার্স মার্কেটকেই নিরাপদ মনে করছেন। দিনমজুর সোবাহান হোসেন জানান, “বড় বড় মার্কেটে জিনিসের যে দাম, তাতে আমাদের মতো মানুষের ঢোকার সাধ্য নেই। হকার্স মার্কেটে ৬০০ টাকায় মেয়ের জন্য জামা আর ৪০০ টাকায় জুতা কিনেছি। এতেই আমাদের ঈদ আনন্দ হবে।” তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম কিছুটা বাড়তি।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজানের মাঝামাঝি সময়ে বেতন ও বোনাস পাওয়ার পর বর্তমানে বিক্রির চাপ কয়েকগুণ বেড়েছে। হকার্স মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, ১৫ রমজানের পর থেকে এই ভিড় আরও বাড়বে এবং বেচাকেনা গত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
হকার্স মার্কেটের বিক্রেতা মিল্টন আনোয়ার বলেন, এ বছর বেচাবিক্রি প্রথম থেকেই ভালো। তবে গত ৮ তারিখের পর থেকে আরও জমে উঠেছে। এই মার্কেটে এখন পর্যন্ত শিশুদের পোশাকের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। শিশুদের জন্য মাত্র ১৫০ থেকে হাজার টাকার মধ্যে ভালোমানের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। নারীদের সালোয়ার কামিজের জন্য গুনতে হচ্ছে ৬শ’-২ হাজার টাকা। এছাড়াও ছেলেদের শার্ট-প্যান্ট ও পাঞ্জাবি সবই হাজার টাকার মধ্যে কেনাকাটা করছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে, ক্রেতা সাধারণের ভিড় সামাল দিতে এবং কেনাকাটা নির্বিঘ্ন করতে মার্কেট কর্তৃপক্ষ ও জেলা পুলিশ বিশেষ নজরদারি রাখছে। শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের বাড়তি তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, সাধ্য আর সাধের মেলবন্ধনে বগুড়ার হকার্স মার্কেট এখন উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা।
পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160977