কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দিনমজুরের ঘরে একসঙ্গে তিন মেয়ের জন্ম

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে দিনমজুরের ঘরে একসঙ্গে তিন মেয়ের জন্ম

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এক দিনমজুরের ঘরে একসঙ্গে তিন মেয়ে সন্তানের জন্ম হয়েছে। নতুন প্রাণের আগমনে পরিবারে আনন্দের আবহ তৈরি হলেও দারিদ্র্য আর খাদ্য সংকট সেই আনন্দকে ঢেকে দিয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। বর্তমানে চার মেয়েসহ ছয় সদস্যের এই পরিবারটি মানবিক সহায়তার আশায় দিন গুনছে।

জানা গেছে, উপজেলার এক দরিদ্র দিনমজুর মিনহাজুল ইসলামের স্ত্রী রনজিনা বেগম (২৭) গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর বাড়িতেই প্রথম মেয়ে সন্তানের জন্ম দেন। পরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত কুড়িগ্রাম খাঁন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে গাইনি চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আরও দুই মেয়ের জন্ম হয়। জন্মের পর তিন নবজাতকের শারীরিক অবস্থা প্রথমে ভালো থাকলেও হঠাৎ তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তাদের অবস্থা অনেকটাই উন্নতির দিকে। শিশু তিনটির জন্মের তিনমাস পেরিয়ে গেলেও মায়ের দুধের অভাব এবং দারিদে্র্যর কারণে শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি।

নবজাতকদের মা রনজিনা বেগম জানান, প্রায় ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়েছে। তাদের বড় মেয়ের বয়স বর্তমানে ৮ বছর। স্বামী মিনহাজুল ইসলাম দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। শ^শুর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিবারের দায়িত্বও তাদের ওপরই। তিনি বলেন, এখন আমাদের পরিবারে চারটি মেয়েসহ মোট ছয়জন সদস্য। স্বামীর সামান্য আয়ে এত বড় সংসার চালানো খুব কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নবজাতক তিনটি শিশুর খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি বা মানবিক সহায়তা পেলে বাচ্চাগুলোর খাবারের কষ্ট কিছুটা কমতো।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, পরিবারটির আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউএনও’র নির্দেশে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আল ইমরান বলেন, বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবজাতক শিশুদের পরিবারকে আরও সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। দরিদ্র এই পরিবারটির পাশে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের দাঁড়ানো আহবান জানান তিনি। 

পোস্ট লিংক : https://karatoa.com.bd/article/160868